ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের মন্ত্রিসভার দুই মন্ত্রী মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) পদত্যাগ করেছেন। বন্যা নিয়ন্ত্রণে ভুতুড়ে অবকাঠামো এবং কোটি কোটি ডলারের সরকারি তহবিল ‘উধাও’ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে চলমান তদন্তে নাম আসার পর এই দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। এই দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে দেশটির সরকার আরও গভীর সংকটে পড়েছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের প্রেস অফিসার ক্লেয়ার কাস্ত্রো জানিয়েছেন, নির্বাহী সচিব (মন্ত্রী) লুকাস বেরসামিন এবং বাজেট ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব (মন্ত্রী) আমেনা পাঙ্গান্ডামান উভয়ই তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
প্রেস অফিসার বলেছেন, ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণের অনিয়মের অভিযোগে তাদের বিভাগগুলোর উল্লেখ পাওয়ার পর’ এবং ‘প্রশাসনকে বিষয়টি যথাযথভাবে সমাধান করার সুযোগ দেওয়ার দায়িত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ’ তারা পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ফিলিপাইনের রাজনীতি বিশেষজ্ঞ এবং সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস-ইউসুফ ইশাক ইনস্টিটিউটের ভিজিটিং সিনিয়র ফেলো আরিস আরুগে বলেন, জুলাই মাসে দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর থেকে বেরসামিন এবং পাঙ্গান্ডামান হলেন মার্কোস সরকারের সর্বোচ্চ পদস্থ সদস্য, যারা সরাসরি দুর্নীতির শিকার হয়েছেন।
মার্কোস নিজে আপাতত কেলেঙ্কারির ঊর্ধ্বে থাকতে পেরেছেন, তবে এই অবস্থা যে কোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে।
আরুগে আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ মার্কোসকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছে এবং এই কারণেই নির্বাহী সচিব, বাজেট সচিবের পদত্যাগ করা হচ্ছে। তারাই এই বিষয়ে কমান্ডের দায়িত্ব গ্রহণ করছে।’
তিনি আরও বলেন, মার্কোস জুনিয়রের এখনো আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, কারণ অনেক এমপি এখনো ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের নেতৃত্বের চেয়ে তাকে বেশি পছন্দ করেন। তবে যদি কেলেঙ্কারি নিয়ে আরও প্রমাণ আসে, তবে মার্কোসের ‘সমস্ত বাজি শেষ’।
ফিলিপাইনে নিয়মিত টাইফুন এবং অন্যান্য গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় আঘাত হানে। দেশটিতে বন্যা একটি স্থায়ী সমস্যা এবং প্রায়শই ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।
দুর্নীতি কেলেঙ্কারির কারণে ফিলিপাইনজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। গত রোববারও রাজধানী ম্যানিলায় ৫ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়।