• শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
সচিব হতে ৩৩ কোটি টাকার চুক্তি হতে পারলে সুদ দিবেন ৮৬ কোটি টাকা ৬ তলা বাড়ি সহ ১০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা রাসেল কবির সনদ জালিয়াতি থেকে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, তবুও বহাল তবিয়তে মালা খান! দুর্নীতির অভিযোগে বদলি কর্মকর্তার পক্ষে ফেসবুক পোস্ট, নিজেও ‘একই অপরাধ’ করার দাবি খাদ্য কর্মকর্তার দুর্নীতি রুখতে নয়া ভাবনা, জি–রামজি প্রকল্পে ফেস রেকগনিশন স্থানীয় সরকারে ১৭ বছরের দুর্নীতির অনুসন্ধানে ৭ সদস্যের কমিটি টেন্ডার না পেয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে মিলছে ভিন্ন চিত্র বিপিসি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ও তার স্ত্রীর শত কোটি টাকার সম্পদ, ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয় সরকার বিভাগের ১৭ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি খুঁজতে সাত সদস্যের কমিটি এলজিইডিতে ‘৬ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি’: পিরোজপুরে বন্ধ উন্নয়নকাজ শুরু হবে ঈদের পর

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ইজারা নিয়ে অভিযোগ বেবিচক চক্রের বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার / ১০২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫

আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হযরত শাহজালাল ও শাহ আমানত বিমানবন্দরে পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারীকে ফের ইজারা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানের দপ্তরে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, বেবিচকের একটি চক্র আর্থিক সুবিধা নিয়ে অনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ করে দিয়েছে। এখনও তারা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের চিকেন এক্সপ্রে, আইটি সেন্টার, আলবি রেন্ট-এ-কার, এয়ারপোর্ট হেল্প সার্ভিস এবং শাহ আমানত বিমানবন্দরের এপিআই এভিয়েশন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরের এই পাঁচ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক কিশোরগঞ্জ জেলার খান মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি আওয়ামী লীগ আমলে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে আপন ফুফা ও অ্যাডভোকেট মোঃ আবদুল হামিদকে উকিল শ্বশুর পরিচয় দিয়ে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইজারা নিয়েছেন বেবিচক থেকে। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের মাধ্যমে দাপট দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বছরের পর বছর ব্যবসা করেছেন মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি নিজেকে একাধিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, পরিচালক পরিচয় দিলেও কোনো প্রতিষ্ঠানের আয়কর ও ভ্যাট নিবন্ধন নেই।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে দেশের তিনটি বিমানবন্দরে ১৬টি বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে মোহাম্মদ ইকবালের কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়নি। ফের তার পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ইজারা নবায়ন করার চেষ্টা চলছে।

সূত্র জানায়, শুধু খান মোহাম্মদ ইকবাল নন, আওয়ামী লীগ আমলে অনেক ব্যবসায়ী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে লিজের মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বছরের পর বছর তাদের নামে ইজারা নবায়ন করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বেবিচকসংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে। বর্তমান বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তিনটি বিমানবন্দরে যে ১৬টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ইজারা বাতিল করা হয়েছে, সেগুলোর কার্যক্রম চলতি অর্থবছরের শুরুতে বন্ধ হয়ে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ইকবালের প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে জানতে সমকালের পক্ষ থেকে অভিযোগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ করে কেউ বক্তব্য দিতে সম্মত হননি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার খান মোহাম্মদ ইকবাল সমকালকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে বিমানবন্দরের কিছু ব্যবসায়ী মিথ্যাচার করছে। আমার বাড়ি কিশোরগঞ্জ হলেও বিমানবন্দরে ব্যবসার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক কোনো ব্যক্তির নাম-পরিচয় ব্যবহার করা হয়নি।’

এ ব্যাপারে বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর মোহম্মাদ মেহবুব খান সমকালকে বলেন, বিমানবন্দরে ব্যবসায়ী ইকবালের প্রতিষ্ঠান নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয়ে বিমানবন্দরে যারা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেছেন, তাদের ইজারা নবায়ন করা হচ্ছে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category