• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক দেড় হাজার কোটি টাকার সুফল প্রকল্পে দুর্নীতির নথিপত্র সংগ্রহ দুদকের দুর্নীতির দায়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বরখাস্ত অনেক গুরুতর প্রশ্নের মুখে সাহাবুদ্দিন সাবেক রাষ্ট্রপতির অতীত কার্যক্রম যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক পুলিশ কর্মকর্তার, বিচার দাবি স্ত্রীর সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি ২ কোটি টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদ কারাগারে এনবিআরে ৩ কমিশনারের পদে রদবদল, কাস্টমস গোয়েন্দায় নতুন মহাপরিচালক জিয়াউলের ভবনে সাদা সোনাসহ শত কোটি টাকার সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক

রাজউকের ইমারত পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদের ২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

Reporter Name / ৯৫ Time View
Update : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর জোন-৩/২-এর ইমারত পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ, গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের বিতর্কিত নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে রাজউকে যোগদান করেন আবুল কালাম আজাদ। অভিযোগ রয়েছে, লিখিত পরীক্ষায় তার পরিবর্তে অন্য কেউ অংশ নিলেও ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত হয়ে প্রভাব খাটিয়ে চাকরি নিশ্চিত করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে আজ পর্যন্ত কোনো তদন্ত হয়নি, যা রহস্যজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার শেরখালী গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের পুত্র আবুল কালাম আজাদ, যিনি জামিল নামেও পরিচিত, ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে রাজউকে যোগ দেন। চাকরিতে যোগদানের পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে হেমায়েতপুরে কটেজ, নিজ এলাকায় আলিশান বাড়ি, রাজধানীতে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাটসহ শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক তিনি।

২০২৩ সালের ২৮ মার্চ জাকির পাটোয়ারী নামে এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পূর্ব বাড্ডা ও উত্তর বাড্ডা এলাকায় বিভিন্ন অননুমোদিত ভবনের মালিকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ীঃ
– পূর্ব বাড্ডার একটি প্ল্যানবিহীন ভবনের মালিকের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা,
– ডা. আলমাসের ভবনের অনিয়মের জন্য ১৮ লাখ টাকা জরিমানা দেখিয়ে রসিদ ছাড়াই আত্মসাৎ,
– দক্ষিণ আনন্দ নগরের একটি অনুমোদনহীন ১০ তলা ভবনের মালিকের কাছ থেকে ৩২ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভবন মালিকদের রাজউকের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করার পরামর্শ দিয়ে অবৈধ স্থাপনা রক্ষার কৌশলও বলে দেন।

২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল মহাখালী জোনাল অফিসের অধীনে পরিচালিত একটি মোবাইল কোর্টের পর তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, তার নির্দেশ না মানলে মোবাইল কোর্টের ভয় দেখিয়ে ভবনের বৈদ্যুতিক মিটার খুলে নেওয়ার হুমকি দেন তিনি। মধ্য পীরেরবাগ এলাকার একাধিক হোল্ডিং থেকে ২ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি রেস্টুরেন্টে বসে নগদ টাকা লেনদেনের ঘটনাও সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

একাধিক অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পর ২০২৩ সালে তাকে জোন-৪/১ থেকে জোন-৮-এ বদলি করা হলেও পরে আবার প্রভাব খাটিয়ে জোন-৩/২-এ ফিরে আসেন বলে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে সাবেক চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনহীন বহুতল ভবন নির্মাণ ও বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। এসব ভবনকে ঘিরে জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লেও রাজউকের সংশ্লিষ্টদের নীরবতা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাইসা বিল্ডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আবাসিক ভবনকে বাণিজ্যিক ভবনে রূপান্তরের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও অর্থের বিনিময়ে সুরক্ষা দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকেই এড়িয়ে যান। এমনকি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছে লিখিত নথি জমা দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন! এত অভিযোগ, প্রমাণ ও সংবাদ প্রকাশের পরও কেন নীরব রাজউক? তবে কি সরষের ভেতরেই ভূত লুকিয়ে আছে?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের দুর্নীতি আরও বিস্তৃত হয়ে জনস্বার্থ ও নগর পরিকল্পনায় মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category