এনবিআরের সাবেক সদস্য জিয়ার অঢেল সম্পদ
কর প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি বাণিজ্য এবং বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য (কর) জিয়াউদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে।
দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকালে নিজ বিভাগে তিনি একক প্রভাব বলয় গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ ও অবৈধ পারিতোষিকের বিনিময়ে অনৈতিক সুবিধা প্রদান, পদকে ঢাল বানিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত করের ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতানো এবং বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অঢেল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ:
* রাজউকের প্লট জালিয়াতি: রাজউকের বিদ্যমান নিয়ম লঙ্ঘন করে মিথ্যা হলফনামা দেওয়ার মাধ্যমে উত্তরা ও পূর্বাচল মেগা আবাসন প্রকল্পে নিজের ও স্ত্রীর নামে পৃথক সরকারি প্লট বাগিয়ে নিয়েছেন।
* ঢাকায় বিলাসবহুল সম্পত্তি: রাজধানীর বনানীর ১৮ নম্বর সড়কে কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটসহ একাধিক স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।
* স্বর্ণালংকার রূপান্তর: এনবিআরের সূত্রে জানা যায়, স্ত্রীর নামে থাকা প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণালংকার পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে রূপান্তর করে সলিড গোল্ড বারে পরিণত করা হয়েছে।
* বিদেশে বাড়ি ও সন্তান: তাঁর দুই ছেলেকে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় পাঠিয়েছেন এবং সেখানে নামে-বেনামে একাধিক বাড়ি কেনা হয়েছে।
দুদকের তদন্ত ও অন্যান্য পরিস্থিতি:
অভিযোগ ঢাকার উদ্দেশ্যে রাজউকের এমআইএস (MIS) থেকে তাঁর ফাইলসংক্রান্ত তথ্য গায়েব করা হয়েছে বলেও জানা যায়। সরকারি পদের অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জিয়াউদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ও অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়ার জন্য বনানীর বাসভবন ও মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে কোনো এক বিদেশী নম্বর থেকে প্রতিবেদককে হুমকির মাধ্যমে এই অনুসন্ধান থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।