• শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
সচিব হতে ৩৩ কোটি টাকার চুক্তি হতে পারলে সুদ দিবেন ৮৬ কোটি টাকা ৬ তলা বাড়ি সহ ১০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা রাসেল কবির সনদ জালিয়াতি থেকে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, তবুও বহাল তবিয়তে মালা খান! দুর্নীতির অভিযোগে বদলি কর্মকর্তার পক্ষে ফেসবুক পোস্ট, নিজেও ‘একই অপরাধ’ করার দাবি খাদ্য কর্মকর্তার দুর্নীতি রুখতে নয়া ভাবনা, জি–রামজি প্রকল্পে ফেস রেকগনিশন স্থানীয় সরকারে ১৭ বছরের দুর্নীতির অনুসন্ধানে ৭ সদস্যের কমিটি টেন্ডার না পেয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে মিলছে ভিন্ন চিত্র বিপিসি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ও তার স্ত্রীর শত কোটি টাকার সম্পদ, ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয় সরকার বিভাগের ১৭ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি খুঁজতে সাত সদস্যের কমিটি এলজিইডিতে ‘৬ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি’: পিরোজপুরে বন্ধ উন্নয়নকাজ শুরু হবে ঈদের পর

দুর্নীতি ফিরেছে পুরোদমে, জনগণ গণনার বাইরে : হোসেন জিল্লুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার / ৯৬ Time View
Update : শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫

জনগণকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রবণতা গভীরতর হচ্ছে, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ফিরেছে পূর্ণ শক্তিতে— সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সম্প্রতি চার দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের প্রতি ইঙ্গিত করে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে সরকার ও রাজনৈরিক দলগুলোর বৈঠকেই বোঝা যায়— জনগণ এখন আর কোনো ইস্যু নয়। সব কিছুই হচ্ছে জনগণের নামে, কিন্তু তাদের বাস্তবে উপেক্ষা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণকে গণনার বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি আবার পূর্ণোদ্যমে ফিরে এসেছে। এটা মেগাদুর্নীতির কথা নয়, বরং জমি রেজিস্ট্রেশন, বিভিন্ন সনদ সংগ্রহসহ প্রতিদিনের জীবনে নাগরিকদের যে দুর্নীতির মুখোমুখি হতে হয় তা আজ পুরোদমে চলছে।’ 

ডিসেম্বর পর্যন্ত অনেকের মধ্যে একটি আশাবাদ জেগেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তখন মনে হয়েছিল, ভিন্ন পথে এগোনোর প্রাতিষ্ঠানিক চেষ্টা চলছে।

কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশার বিপরীতে দেখা যাচ্ছে যে আমলা কর্তৃত্ব ও প্রশাসনিক স্বার্থ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 

জিল্লুর রহমান বলেন, আমলা শাসন নয়, আমলা কর্তৃত্ব পুরোপুরি টিকে আছে। স্থানীয় সরকার উপেক্ষিত এবং আমলারা তাদের অবস্থান আরো পোক্ত করেছেন।

জিল্লুর রহমান আরো বলেন, যারা এই পরিবর্তনের চালিকাশক্তি ছিলেন, যারা বিপ্লব করেছেন বা ঝুঁকি নিয়েছেন, তারা এখন নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন।

তারা দেখছেন, কথার ফুলঝুরি ছাড়া তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হচ্ছে না। 

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা কাগুজে ঐকমত্যের দিকে এগোচ্ছি, কিন্তু জুলাই-আগস্টে যে জাতীয় ঐক্য ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি— তা আজ আলোচনার বাইরেই চলে গেছে। এ ছাড়া নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে দক্ষতার বড় অভাব দেখা যাচ্ছে। অথচ কাগজে-কলমে প্রচুর যোগ্যতা আছে। বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই

তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, এই মুহূর্তে ‘বাংকার মেন্টালিটি’ বা প্রতিরক্ষামূলক সংকীর্ণ মানসিকতা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এই মানসিকতা তখন গড়ে ওঠে, যখন রাষ্ট্র শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিগুলোকে নিয়ে চিন্তা করে, কিন্তু জনগণকে সহযোগী না ভেবে দর্শকে পরিণত করে।

তিনি মনে করেন, এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো জনগণকে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীতে পরিণত করা। শুধু নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, আরো নানা উপায়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category