অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সম্প্রতি চার দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের প্রতি ইঙ্গিত করে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে সরকার ও রাজনৈরিক দলগুলোর বৈঠকেই বোঝা যায়— জনগণ এখন আর কোনো ইস্যু নয়। সব কিছুই হচ্ছে জনগণের নামে, কিন্তু তাদের বাস্তবে উপেক্ষা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণকে গণনার বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
ডিসেম্বর পর্যন্ত অনেকের মধ্যে একটি আশাবাদ জেগেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তখন মনে হয়েছিল, ভিন্ন পথে এগোনোর প্রাতিষ্ঠানিক চেষ্টা চলছে।
জিল্লুর রহমান বলেন, আমলা শাসন নয়, আমলা কর্তৃত্ব পুরোপুরি টিকে আছে। স্থানীয় সরকার উপেক্ষিত এবং আমলারা তাদের অবস্থান আরো পোক্ত করেছেন।
জিল্লুর রহমান আরো বলেন, যারা এই পরিবর্তনের চালিকাশক্তি ছিলেন, যারা বিপ্লব করেছেন বা ঝুঁকি নিয়েছেন, তারা এখন নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা কাগুজে ঐকমত্যের দিকে এগোচ্ছি, কিন্তু জুলাই-আগস্টে যে জাতীয় ঐক্য ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি— তা আজ আলোচনার বাইরেই চলে গেছে। এ ছাড়া নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে দক্ষতার বড় অভাব দেখা যাচ্ছে। অথচ কাগজে-কলমে প্রচুর যোগ্যতা আছে। বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই
তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, এই মুহূর্তে ‘বাংকার মেন্টালিটি’ বা প্রতিরক্ষামূলক সংকীর্ণ মানসিকতা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এই মানসিকতা তখন গড়ে ওঠে, যখন রাষ্ট্র শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিগুলোকে নিয়ে চিন্তা করে, কিন্তু জনগণকে সহযোগী না ভেবে দর্শকে পরিণত করে।
তিনি মনে করেন, এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো জনগণকে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীতে পরিণত করা। শুধু নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, আরো নানা উপায়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে বলে জানান তিনি।