“৪০ লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় ২.৩৫ কোটি টাকার কর নির্ধারণের অভিযোগ”
প্রবাসী আইটি উদ্যোক্তার দাবি, কর অডিটে অনিয়ম ও চাপের মুখে পড়েছেন তিনি
📍 নিজস্ব প্রতিবেদক
একজন প্রবাসী আইটি উদ্যোক্তা ফরহাদুল আলম অভিযোগ করেছেন, ৪০ লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার কর নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২২-২০২৩ কর বছরের আয়কর অডিটকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগীর দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) আওতাধীন ২৪৭ নম্বর কর জোনে অডিট চলাকালে একাধিক অনিয়মের সম্মুখীন হন তিনি। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই জোনের একজন টাইপিস্ট জাকিরের মাধ্যমে তৎকালীন উপ-কর কমিশনার (DCT) হাসিবুল ইসলাম তার প্রতিনিধির কাছে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
তিনি জানান, ঘুষ দাবির বিষয়টি অত্যন্ত অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। একটি ক্যালকুলেটরে “৪০” লিখে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, উক্ত অর্থ প্রদান করলে তার দাখিলকৃত ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
ফরহাদুল আলম আরও বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে আয় করছি এবং নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করছি। আমার সব ব্যাংকিং লেনদেন ও রেমিট্যান্সের সঠিক ব্যাখ্যা আমি কর্তৃপক্ষকে দিয়েছি। তারপরও আমাকে এ ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।”
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করলেও আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে সময় ও অর্থের বড় ধরনের ব্যয়ের বিষয় থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সে পথে এগোনো সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে, ঘুষের অর্থ প্রদান না করায় ২০২২-২০২৩ কর বছরের জন্য তার ওপর ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার কর নির্ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া সম্প্রতি ২০২৩-২০২৪ কর বছরের জন্য তার পাশাপাশি তার স্ত্রী ও পিতার আয়কর রিটার্নও অডিটের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ফরহাদুল আলম দাবি করেন, গত এক দশকে তার প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে দেশে কয়েক হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স এসেছে। ব্যক্তিগতভাবেও তিনি কয়েকশত কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন। এ অবদানের জন্য তিনি একাধিকবার কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন।
একজন প্রবাসী উদ্যোক্তা হিসেবে এ ধরনের পরিস্থিতিকে তিনি অত্যন্ত হতাশাজনক উল্লেখ করে বলেন, “এতে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।