• শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক দেড় হাজার কোটি টাকার সুফল প্রকল্পে দুর্নীতির নথিপত্র সংগ্রহ দুদকের দুর্নীতির দায়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বরখাস্ত অনেক গুরুতর প্রশ্নের মুখে সাহাবুদ্দিন সাবেক রাষ্ট্রপতির অতীত কার্যক্রম যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক পুলিশ কর্মকর্তার, বিচার দাবি স্ত্রীর সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি ২ কোটি টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদ কারাগারে এনবিআরে ৩ কমিশনারের পদে রদবদল, কাস্টমস গোয়েন্দায় নতুন মহাপরিচালক জিয়াউলের ভবনে সাদা সোনাসহ শত কোটি টাকার সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক

ছাত্রলীগ কোটা-নিয়োগ ও ষড়যন্ত্রের জাল এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানিতে: সংস্কারক এমডি সামাদ মৃধা এখন টার্গেটে

মুরাদ হোসেন / ২১৬ Time View
Update : রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) বর্তমানে এক গভীর ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এমডির সময়ে, স্বৈরাচার সরকারের আমলে, কয়েক হাজার নিয়োগ হয়েছে ছাত্রলীগ কোটা ও দলীয় প্রভাবের ভিত্তিতে। সেই সময় নিয়োগে মেধা ও দক্ষতার বদলে রাজনৈতিক আনুগত্যই ছিল মুখ্য যোগ্যতা। এতে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত পরিণত হয় একটি ‘দলীয় জনবল নিয়োগ কেন্দ্র’-এ।

সাবেক সরকারের ওই হরিলুট নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ে একটি সুবিধাবাদী চক্র, যারা আজও সক্রিয়। গোপালগঞ্জ কেন্দ্রিক রাজনীতির ছায়াতলে বেড়ে ওঠা এসব কর্মচারী বর্তমানে সংগঠিত হয়ে প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুস সামাদ মৃধা। তিনি নিজেই পূর্বের অস্বচ্ছ নিয়োগ, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে এসেছেন। তার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চায় একটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক ওষুধ কোম্পানি গড়ে তুলতে।

তবে তার এই উদ্যোগকেই এখন প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে ছাত্রলীগ কোটা থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত একটি চক্রের মাধ্যমে। তারা মিডিয়া-প্রচারণার মাধ্যমে সামাদ মৃধার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই প্রচারণায় সহায়তা করছে সাবেক স্বৈরাচার সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী এমপি-মন্ত্রীদের মালিকানাধীন কিছু প্রভাবশালী মিডিয়া হাউজ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি সংগঠিত প্রতিরোধ—যা শুধু একজন ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে নয়, বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দলমুক্ত ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার উদ্যোগকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র।

এমডি সামাদ মৃধার নেতৃত্বে ইতোমধ্যে কয়েকটি অস্বচ্ছ নিয়োগ তদন্তাধীন রয়েছে। অবৈধ পদোন্নতি ও ভূয়া সনদে চাকরি প্রাপ্তদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু যেই মুহূর্তে সংস্কারের ধারা তৈরি হচ্ছিল, তখনই শুরু হয়েছে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন ও গুজবের সয়লাব।

জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি বারবার রাজনৈতিক চক্রান্ত ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে। এখন যখন প্রতিষ্ঠানটি পুরনো প্রভাবমুক্ত হয়ে পেশাদারিত্বের পথে হাঁটছে, তখনই শুরু হয়েছে এক প্রভাবশালী চক্রের ষড়যন্ত্র।
এই ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে রাষ্ট্রীয় ওষুধ উৎপাদনে এসেনশিয়াল ড্রাগসকে যদি সত্যিকার অর্থে দক্ষ ও নিরপেক্ষ করা যায়, তবে লাভবান হবে গোটা জাতি—বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category