• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক দেড় হাজার কোটি টাকার সুফল প্রকল্পে দুর্নীতির নথিপত্র সংগ্রহ দুদকের দুর্নীতির দায়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বরখাস্ত অনেক গুরুতর প্রশ্নের মুখে সাহাবুদ্দিন সাবেক রাষ্ট্রপতির অতীত কার্যক্রম যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক পুলিশ কর্মকর্তার, বিচার দাবি স্ত্রীর সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি ২ কোটি টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদ কারাগারে এনবিআরে ৩ কমিশনারের পদে রদবদল, কাস্টমস গোয়েন্দায় নতুন মহাপরিচালক জিয়াউলের ভবনে সাদা সোনাসহ শত কোটি টাকার সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক

দুদকে নিয়োগে সার্চ কমিটির কাছে ৪০টির মতো নাম

স্টাফ রিপোর্টার / ৩২ Time View
Update : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

তিন মাসের বেশি সময় ধরে নেতৃত্বহীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠনের উদ্যোগে দেশে দুর্নীতি দমনের এই সংস্থায় দায়িত্ব পেতে আগ্রহী ৪০ জনের মতো ব্যক্তিকে পাওয়া গেছে।

এই ব্যক্তিরা দুদক সার্চ (বাছাই) কমিটির কাছে তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের মধ্য থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান ও দুজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেবেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জমা পড়া ৪০টি মতো জীবনবৃত্তান্তের মধ্যে বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সংখ্যাই বেশি। চেয়ারম্যান পদে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম এখন আলোচনায় রয়েছে। সাবেক একজন বিচারক, সাবেক একজন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, প্রশাসন ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা এবং বর্তমানে একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত একজনের নামও রয়েছে আলোচনায়।

দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করার পর থেকেই সংস্থাটির শীর্ষ তিনটি পদ শূন্য। এতে দুদকের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন অভিযোগের অনুসন্ধান ও মামলার অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আটকে রয়েছে।

স্বাধীন সংস্থা দুদকে অচলাবস্থার অবসানে গত ২২ জুন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এস এম রেজভী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সার্চ কমিটি এ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বৈঠক করেছে। এর মধ্যে ১৩ জুলাই আগ্রহী ব্যক্তিদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে। এখন প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা করাসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে কমিটির পরবর্তী বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

দুদক সূত্র জানায়, জমা পড়া জীবনবৃত্তান্তগুলো সার্চ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে খোলা হবে। এরপর প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, সার্চ কমিটিকে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দুজন করে প্রার্থীর নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করতে হয়।

দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আইন অনুযায়ী সার্চ কমিটি আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিটি শূন্য পদের জন্য দুজন করে প্রার্থীর নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে। পরবর্তী সময় রাষ্ট্রপতি সেখান থেকে চূড়ান্ত নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

দুদক আইন, ২০০৪-এর ৭ ধারা অনুযায়ী গঠিত এই সার্চ কমিটি চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে। সে লক্ষ্যেই আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়েছিল।

জমা দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে প্রার্থীর নাম, মা–বাবার নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, জন্মতারিখ, জাতীয়তা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশা বা কর্মজীবনের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি মুঠোফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং শিক্ষাগত ও পেশাগত অভিজ্ঞতার সনদের অনুলিপি চাওয়া হয়।

আইন অনুযায়ী, চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে আগ্রহী ব্যক্তিদের দুদক আইনের ৮(১) ধারায় উল্লিখিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে আইনের ৮(২) ধারায় অযোগ্য ঘোষিত কোনো ব্যক্তি এ পদের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।

আইন অনুসারে তাঁরাই দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগের যোগ্য হন, যাঁদের আইনে, শিক্ষায়, প্রশাসনে, বিচারে বা শৃঙ্খলা বাহিনীতে অন্যূন ২০ (বিশ) বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তবে সরকারি চাকরিরত কেউ নিয়োগ পান না।

বাংলাদেশের নাগরিক নন, ঋণখেলাপি, দেউলিয়া, নৈতিক স্খলন কিংবা দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত, শারীরিকভাবে অক্ষম, কর্মজীবনে বিভাগীয় মামলায় গুরুদণ্ডে দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি দুদকে নিয়োগে অযোগ্য বিবেচিত হন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category