• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক দেড় হাজার কোটি টাকার সুফল প্রকল্পে দুর্নীতির নথিপত্র সংগ্রহ দুদকের দুর্নীতির দায়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বরখাস্ত অনেক গুরুতর প্রশ্নের মুখে সাহাবুদ্দিন সাবেক রাষ্ট্রপতির অতীত কার্যক্রম যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক পুলিশ কর্মকর্তার, বিচার দাবি স্ত্রীর সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি ২ কোটি টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদ কারাগারে এনবিআরে ৩ কমিশনারের পদে রদবদল, কাস্টমস গোয়েন্দায় নতুন মহাপরিচালক জিয়াউলের ভবনে সাদা সোনাসহ শত কোটি টাকার সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেবাখাতে দুর্নীতি বাড়ার তথ্য টিআইবির জরিপে, আসলে কারণ কী

স্টাফ রিপোর্টার / ৫০ Time View
Update : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

ক্ষমতাচ্যূত আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেবা খাতে দুর্নীতির পরিমাণ ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছিল- এমন তথ্য জানানো হয়েছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি’র জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’র প্রতিবেদনে।

তবে ২০১৭ সাল থেকে টিআইবির একই ধরনের আগের জরিপগুলোতে সেবাখাতে দুর্নীতি ক্রমশ বেড়েছে বলেই দেখা যাচ্ছে।

যদিও দুর্নীতি আর ঘুষ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ার সাথে ক্ষমতায় থাকা সরকারের চেয়ে সামগ্রিক কাঠামোকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

তারা বলছেন, দুর্নীতি হচ্ছে মূলত মাঠ পর্যায়ে। সরকার বদলালেও কাঠামো বরাবরই একই রকম ছিল। দুর্নীতি, ঘুষ কিংবা অবৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের অপরাধে শাস্তির উদাহরণ না থাকায় তা সময়ের সাথে সাথে বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া বেশিরভাগ সিদ্ধান্তই ছিল রাজনীতিকেন্দ্রিক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের মুখে জোরালো আওয়াজ শোনা গেলেও তা কমাতে বাস্তবিক কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়নি। এমনকি কমিশন গঠন ছাড়া মাঠ পর্যায়ে যেহেতু দুর্নীতি দমনে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, ফলে স্বাভাবিকভাবেই “যেভাবে দুর্নীতি হয়েছে সেই পরিস্থিতিরই অব্যাহত ধারা” দেখা গেছে।

তাছাড়া নির্বাচিত সরকার না হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে চলা দুর্নীতি দমানো কিংবা কমানোর ‘ক্যাপাসিটি’ না থাকায় আগের সরকারের তুলনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ ধরনের প্রবণতা বেড়েছে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

এদিকে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল টিআইবির দেওয়া তথ্যকে তৃণমূল পর্যায়ের দুর্নীতি উল্লেখ করে বলছেন, “সেখানে দুর্নীতির যতটুকু বৃদ্ধি হয়েছে, প্রতি বছরের মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় তা বেশি নয়”।

প্রতিবেদনে কী আছে?

সেবা খাতে দুর্নীতির মাত্রা জানতে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৫টি খানার ওপর জরিপ চালায় টিআইবি।

জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, গ্রাম ও শহরাঞ্চল মিলিয়ে দেশের ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ খানা কমপক্ষে একটি সেবা খাতে দুর্নীতির শিকার হয়েছে, যা ২০২৩ সালে ছিল ৭০.৯ শতাংশ।

একইভাবে ২০২৫ সালে ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ খানা কমপক্ষে একটি সেবা খাতে ঘুষের শিকার হয়েছে; ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ।

টিআইবি জানায়, দুই বছরের ব্যবধানে দুর্নীতি আর ঘুষ দুই ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীর সংখ্যা বেড়েছে যথাক্রমে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ১২ দশমিক ৮ শতাংশ।

তাদের আগের জরিপগুলোতেও দুর্নীতির হার ক্রমান্বয়ে বাড়তে দেখা গেছে। যেমন- ২০১৭ সালে সব মিলিয়ে দুর্নীতির শিকার হয়েছিল সাড়ে ৬৬ শতাংশ মানুষ। পাঁচ বছর পর ২০২১ সালের জরিপে এই সংখ্যা বেড়ে ৭০ দশমিক আট শতাংশে দাঁড়ায় বলেও জানানো হয়।

তবে ঘুষের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি ছিল কিছুটা আলাদা, বলছে টিআইবি। ২০১৭ সালে তাদের জরিপ প্রতিবেদনে যে সংখ্যা ছিল ৪৯ দশমিক আট শতাংশ, পাঁচ বছরের ব্যবধানে তা কমে ৪০ দশমিক এক শতাংশে দাঁড়ায়।

এই একটি বাদে বাকি সব উপাত্তেই পর্যায়ক্রমে দুর্নীতি ও ঘুষের পরিমাণ বাড়তে থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category