• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক দেড় হাজার কোটি টাকার সুফল প্রকল্পে দুর্নীতির নথিপত্র সংগ্রহ দুদকের দুর্নীতির দায়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বরখাস্ত অনেক গুরুতর প্রশ্নের মুখে সাহাবুদ্দিন সাবেক রাষ্ট্রপতির অতীত কার্যক্রম যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক পুলিশ কর্মকর্তার, বিচার দাবি স্ত্রীর সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি ২ কোটি টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদ কারাগারে এনবিআরে ৩ কমিশনারের পদে রদবদল, কাস্টমস গোয়েন্দায় নতুন মহাপরিচালক জিয়াউলের ভবনে সাদা সোনাসহ শত কোটি টাকার সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক

দুর্নীতিতে শীর্ষে ময়মনসিংহ, ঘুষে খুলনা: টিআইবি

স্টাফ রিপোর্টার / ৬৮ Time View
Update : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) দুর্নীতিবিষয়ক জরিপে সেবাখাতে বিভাগীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। আর ঘুষের শিকারে শীর্ষে রয়েছে খুলনা বিভাগ।

আজ বৃহস্পতিবার টিআইবি প্রকাশিত ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

টিআইবির খানা জরিপ অনুযায়ী, ময়মনসিংহ বিভাগের ৮৮ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এ বিভাগের ৬৬ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষকে সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ দিতে হয়েছে। খুলনা বিভাগের ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষও সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, খুলনায় দুর্নীতির হার ৮৮ শতাংশ।

বরিশাল বিভাগে দুর্নীতির শিকার হয়েছেন ৮৭ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ এবং ঘুষের শিকার হয়েছেন ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ। রংপুর বিভাগে দুর্নীতির শিকার হওয়ার হার ৮৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ঘুষের শিকার হওয়ার হার ৬২ দশমিক ৮ শতাংশ।

রাজধানী ঢাকা বিভাগে দুর্নীতির শিকার হওয়ার হার ৮০ দশমিক ১ শতাংশ হলেও ঘুষের শিকার হয়েছেন ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ। চট্টগ্রাম বিভাগে এ হার যথাক্রমে ৭৯ দশমিক ৪ শতাংশ ও ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে দুর্নীতির শিকার হয়েছেন ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ এবং ঘুষ দিয়েছেন ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

টিআইবির জরিপ অনুযায়ী, দেশে সবচেয়ে কম দুর্নীতি ও ঘুষের অভিজ্ঞতা পাওয়া গেছে রাজশাহী বিভাগে। এখানে দুর্নীতির শিকার হওয়ার হার ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ।

দেশে দুর্নীতি ও ঘুষের অভিজ্ঞতা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয়ভাবে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার হয়েছেন এবং ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ঘুষ দিয়েছেন।

বিভাগভেদে পার্থক্য থাকলেও দেশের প্রায় সব অঞ্চলে দুর্নীতি ও ঘুষ একটি কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। জরিপের ফলাফল থেকে স্পষ্ট, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্নীতির প্রকৃতি ও মাত্রা ভিন্ন হলেও নাগরিকদের একটি বড় অংশ এখনো দুর্নীতি ও ঘুষের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

এদিকে, জাতীয়ভাবে ২০২৩ সালের মতো ২০২৫ সালেও পাসপোর্ট (৭৬.৬ শতাংশ) ও বিআরটিএ (৬৩.৫ শতাংশ) থেকে সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এরপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি এবং বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা। এসব খাতে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণও সবচেয়ে বেশি।

তবে সার্বিকভাবে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। গত বছরে খানাপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২৪ টাকা।

জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার মনে করে, ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিচারিক সেবায় ঘুষ ও দুর্নীতির উচ্চহার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা হয়ে আছে। পাশাপাশি কৃষি, স্থানীয় সরকার, ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পাসপোর্ট এবং বিআরটিএ খাতেও দুর্নীতির প্রবণতা বেড়েছে অথবা আগের মতোই রয়ে গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category