কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত মো. শফিকুল ইসলামের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনায় তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে জমি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক আমানত, স্বর্ণালংকার এবং অন্যান্য সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, শফিকুল ইসলাম ১৯৯৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, কুমিল্লার বরুড়া এবং বর্তমানে মুরাদনগরে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী তাছলিমা আক্তার, দুই মেয়ে ও এক ছেলে। স্ত্রী গৃহিণী। বড় মেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত, ছোট মেয়ে কুমিল্লার ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবং ছেলে কুমিল্লা জিলা স্কুলে পড়াশোনা করছে।
প্রাপ্ত সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, তার নামে ব্যাংকে জমা ও গচ্ছিত অর্থ রয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। জিপিএফ/সিপিএফ খাতে সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ ৩০ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া নিজের নামে ৩ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর হিসাব দেখানো হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে স্বর্ণালংকারের তথ্য। সম্পদ বিবরণীতে নিজের নামে ৫ ভরি এবং স্ত্রীর নামে ২২ ভরি, মোট ২৭ ভরি স্বর্ণের উল্লেখ রয়েছে। এসব স্বর্ণের উৎস হিসেবে ‘উপহার’ উল্লেখ করা হলেও এর মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। বর্তমান বাজারমূল্যে যার আনুমানিক মূল্য অর্ধকোটি টাকার বেশি
স্থাবর সম্পদের তালিকায় কুমিল্লার আদর্শ সদর ও দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় কৃষি ও অকৃষি জমির মালিকানার তথ্য রয়েছে। সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, ২০১৪ সালে আদর্শ সদর উপজেলার খেতাসার ও কৃষ্ণনগর মৌজায় ১৪ শতক কৃষিজমি ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ক্রয় করা হয়। অর্থের উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে অতীত সঞ্চয় এবং স্ত্রীর কাছ থেকে নেওয়া ঋণ।
এছাড়া ২০০৮ সালে কৃষ্ণনগর মৌজায় সাড়ে চার শতক জমি ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ক্রয়ের তথ্য রয়েছে। ওই অর্থের উৎস হিসেবে অতীত সঞ্চয়, সেলাই কাজ ও প্রাইভেট টিউশনের আয় উল্লেখ করা হয়েছে।
দেবিদ্বার উপজেলার কাশারিখোলা মৌজায় তার স্ত্রীর নামে ১৬ শতক জমি হেবা-বিল-এওয়াজ দলিলের মাধ্যমে অর্জনের তথ্যও সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে আরও একাধিক জমির মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে।
সম্পদ বিবরণীতে আদর্শ সদর উপজেলার মনোহরপুর মৌজায় ১ হাজার ৪২০ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাটের তথ্য রয়েছে। ২০২১ সালে ২৬ লাখ টাকায় ফ্ল্যাটটি ক্রয় করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই এলাকার সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য ঘোষিত মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘোষিত সম্পদের বাইরে একটি চারতলা ভবন ও আরও একটি বড় স্থাপনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জমিসহ এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সম্পদ বিবরণীতে সম্পদের উৎস হিসেবে অতীত সঞ্চয়, বেতনের অংশ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, সেলাই কাজ এবং প্রাইভেট টিউশন থেকে আয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একজন নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীর পরিবারের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সম্পদের উৎস, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব এবং সম্পদ অর্জনের বৈধতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তাদের মতে, এ বিষয়ে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে আসবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার কিছু বলার নেই। আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আছেন, বিভাগ জানে। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।”