জ্বালানি খাতে চুরি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা কমানো গেলে তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
রবিবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কষ্টের মধ্যে ফেলবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাকাল কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা এতে আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, দেশে বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে তেলের দাম বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা উচিত।
বিবৃতিতে সাইফুল হক উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে নেমে এলেও সেই সুফল দেশের সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। উল্টো বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ কোনো সরকারের কাজ হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরকারকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনতে হলেও দেশের জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় পরিকল্পিতভাবে ভর্তুকি দিয়ে যেতে হবে। গত কয়েক দশকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্থাগুলোর অর্জিত বিপুল মুনাফা থেকেও এ ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব।
জ্বালানি খাতে বিদ্যমান দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ খাতে চুরি, লুটপাট, সিস্টেম লস ও অব্যবস্থাপনা মাত্র ১০ শতাংশ কমিয়ে আনতে পারলেও জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না।বিবৃতিতে অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।