• বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন

১৪ লাখে চুক্তি, আড়াই লাখ টাকা ঘুস নেন অফিস সহকারী

স্টাফ রিপোর্টার / ১১৩ Time View
Update : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

রংপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

 

 

অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান লিমন ওই কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত।

 

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশের কথা বলে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন লিমন। এভাবে প্রায় ১০ জন প্রার্থীর সঙ্গে ১৪ থেকে ১৮ লাখ টাকার চুক্তি করেন তিনি।

 

 

এর মধ্যে মিঠাপুকুর উপজেলার শুকুরেরহাট এলাকার আনওয়ারুল ইসলাম তার ভাবির জন্য ১৪ লাখ টাকার চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষার আগে অগ্রিম হিসেবে দুই দফায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেন তিনি। লিখিত পরীক্ষার ফলের পর ১০ লাখ এবং ভাইভা শেষে বাকি ৪ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল।

 

 

গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার ফল ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত হলে আনওয়ারুলের ভাবির নাম তালিকায় আসেনি। এরপর তিনি টাকা ফেরত চাইলে লিমন তাকে বিভিন্নভাবে ঘোরাতে থাকেন।

 

 

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টায় লিমন তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক থেকে আনওয়ারুলের সোনালী ব্যাংকের হিসাবে ২৭ হাজার টাকা পাঠান। পরে ৫ মার্চ এক লাখ টাকার সিটি ব্যাংক রংপুর শাখার একটি চেক দেন, যা ভাঙাতে গিয়ে জানা যায় সেটি একটি বন্ধ হিসাবের চেক।

 

 

ভুক্তভোগী আনওয়ারুল ইসলাম বলেন, বিশ্বস্ত এক বন্ধুর মাধ্যমে লিমনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তিনি নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু পরীক্ষায় নাম না আসার পর টাকা ফেরত চাইলে পুরো টাকা না দিয়ে টালবাহানা করেন।

 

 

অভিযোগ অস্বীকার করে রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মনিরুজ্জামান লিমন বলেন, ব্যবসার প্রয়োজনে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে ছোট–বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন করতেই হয়, যার সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট চেকটিও সম্ভবত ব্যবসায়িক কারণেই ওই ব্যক্তির কাছে গেছে।

 

 

অভিযোগকারী আনওয়ারুলের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ২৭ হাজার টাকা স্থানান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে লিমন বলেন, সেটিও হয়তো ব্যবসায়িক লেনদেনের অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।

 

 

তিনি জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করেন। এ অবস্থায় রাত ১২টা ২৬ মিনিটে করা ওই অর্থ স্থানান্তর কীভাবে ব্যবসায়িক লেনদেনের মধ্যে পড়ে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

 

 

অন্যদিকে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এ ধরনের আর্থিক লেনদেন অফিসিয়াল কোনো বিষয় নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category