• রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্যসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানকে চট্টগ্রাম বিএনপি নেতাদের সাধুবাদ ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো দুর্নীতির মহোৎসব শুরু হয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পি কে হালদারের সহযোগী নওশেরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দুর্নীতির মামলা বেড়েছে, সাজা কম বেবিচকের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয়ের কোটি টাকার সম্পদের হিসাব তলব ঘুষ হিসেবে জমি নিয়ে ফাঁসলেন উপ-সচিবসহ ৫ জন সিভিল এভিয়েশনে শত কোটি টাকার দুর্নীতি দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে দায়মুক্তি উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ

বিকাশে টাকা, কুরিয়ারে ডকুমেন্ট, অনলাইনে লাইসেন্স

স্টাফ রিপোর্টার / ১২৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

পরিমাণ ১২৪ কোটির টাকার বেশি।

 

 

ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ৪৮ হাজার ১৫৩টি। প্রতিটিতে অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। গড়ে ১৫ হাজার ধরলে এই খাতে আদায় হয়েছে ৭২ কোটি টাকার বেশি। সব মিলিয়ে পাঁচ বছরে এই চার ধরনের লাইসেন্সে অবৈধ আদায়ের পরিমাণ ৫৭১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

 

 

কারা পেয়েছেন এই লাইসেন্স

দালাল চক্রের মাধ্যমে যারা লাইসেন্স পেয়েছেন তাদের তালিকায় রয়েছে ঢাকার মতিঝিলের ‘গণি পাওয়ার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তির নামে টাঙ্গাইলের মো. শহিদুল ইসলামও এভাবে লাইসেন্স পেয়েছেন। এ ছাড়া পেয়েছেন এমএস তালুকদার এন্টারপ্রাইজ, এমএস তাওহিদ এন্টারপ্রাইজ, এমএস এ আর অ্যান্ড কোং, সর্দার সিরাজুম মুনিরা, মো. তফিকুর রহমান, একে এম আখতার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম, মো. আল মাসুদ, সুমন কুমার দাস, মো. আবদুর রশিদ ও মো. বাবুল মিয়া প্রমুখ।

 

 

মাসিক বেতন ১৭ হাজার, লেনদেন ৫ লাখ

সাখাওয়াত হোসেন বাবুর মাসিক বেতন মাত্র ১৭ হাজার ২৩৭ টাকা। আর উইলিয়াম হোসেনের বেতন ২২ হাজার ২৯৭ টাকা। কিন্তু তাদের আর্থিক লেনদেনের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

 

 

নথি অনুযায়ী, শুধু মোবাইল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম বিকাশ ও নগদে গত এক বছরে সাখাওয়াত লেনদেন করেছেন ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাসে গড়ে ৫ লাখ টাকা। এর বাইরেও তাঁর ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের হিসাবে ঘুষ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

 

 

উইলিয়ামের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর (**৮১৮৫০৪) ও লতা আক্তার নামের আরেকটি বিকাশ নম্বরে (**৬৬৮১০৪) গত বছর লেনদেন হয়েছে ৮০ লাখ টাকার বেশি। সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে গত বছর লেনদেন হয়েছে আরও ২০ লাখ টাকার বেশি। সব মিলিয়ে উইলিয়াম প্রতি মাসে লেনদেন করেন ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা।

 

 

দুই কর্মচারির জমি, ফ্ল্যাট, বহুতল ভবন

নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, সাখাওয়াত সম্প্রতি বেশকিছু জমি কিনেছেন। গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় রামশীল কাফুলাবাড়ি মৌজায় নারায়ণ রায়ের কাছ থেকে প্রায় ৭৫ লাখ টাকায় কিনেছেন ১৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ জমি (দলিল নম্বর **২৪)। একই মৌজায় জিন্নাতুন নেসার কাছ থেকে কিনেছেন আরও ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ জমি, আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা (দলিল নম্বর **১৯)।

 

 

কোটালিপাড়ায় সাখাওয়াত ও তার ভাই ইয়াসিন কাজীর নামে রয়েছে আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৩৯ দশমিক ৮২ শতাংশ জমি। একই এলাকায় দুই ভাইয়ের নামে রয়েছে আরও ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ জমি, আনুমানিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা। এ ছাড়া কোটালিপাড়ার বান্ধাবাড়ী মৌজায় সাখাওয়াতের নামে রয়েছে আনুমানিক ২ কোটি টাকা মূল্যের ৪২ শতাংশের একটি প্লট।

 

 

উইলিয়ামের গ্রামের বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া থানার তেলিধ্যান্যপুরে। সম্প্রতি বাজারে একটি জমি কিনে সেখানে চারতলা ফাউন্ডেশনের একটি ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন তিনি।

 

 

নির্বাচন কমিশন থেকে বিদ্যুৎ বিভাগ

বিদ্যুৎ বিভাগে যোগ দেওয়ার আগে উইলিয়াম নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর চাকরি ছেড়ে দেন তিনি।

 

 

নথিপত্রে দেখা যায়, উইলিয়ামের নানা মো. জয়নাল মোল্লা একজন মুক্তিযোদ্ধা। ২০০৫ সালে বেসামরিক গেজেটভুক্ত হয়েছেন তিনি (গেজেট নম্বর ২১২৩, প্রকাশের তারিখ ১৪ মে ২০০৫)। নাতি হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিদ্যুৎ বিভাগে চাকরি নেন উইলিয়াম। তবে নথিপত্রে কিছু অসামঞ্জস্যও দেখা গেছে। উইলিয়াম ও তাঁর ভাই-বোনদের জাতীয় পরিচয়পত্রে মায়ের নাম লেখা ‘রিনা খাতুন’। কিন্তু তাঁর বাবা মো. নাজিম উদ্দীনের একাধিক পাসপোর্টে স্ত্রীর নাম হিসেবে উল্লেখ রয়েছে রেহেনা বেগম।

 

 

অভিযুক্তদের বক্তব্য

এ বিষয়ে উইলিয়ামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। যা ইচ্ছা তাই লিখতে পারেন।’

 

 

অফিস সহকারী সাখাওয়াত হোসেন বাবু এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘যে অভিযোগ করছেন এগুলোর সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই।’ টাকা লেনদেনের নথির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই লেনদেনগুলো আমি করিনি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category