• রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্যসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানকে চট্টগ্রাম বিএনপি নেতাদের সাধুবাদ ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো দুর্নীতির মহোৎসব শুরু হয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পি কে হালদারের সহযোগী নওশেরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দুর্নীতির মামলা বেড়েছে, সাজা কম বেবিচকের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয়ের কোটি টাকার সম্পদের হিসাব তলব ঘুষ হিসেবে জমি নিয়ে ফাঁসলেন উপ-সচিবসহ ৫ জন সিভিল এভিয়েশনে শত কোটি টাকার দুর্নীতি দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে দায়মুক্তি উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ

ইসকনকে দুই লাখ টাকায় ১২০ কোটির জমি দিয়েছে রাজউক

স্টাফ রিপোর্টার / ১৫৬ Time View
Update : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে একপর্যায়ে উভয়পক্ষের অনাপত্তি চেয়ে চিঠি পাঠায় রাজউক। মন্দির কমিটির দাবি ছিল, ৮৩ দশমিক ৩ কাঠার প্লটটির পেছনে পশ্চিম পাশের রাস্তা থেকে ১৬০ ফুট তাদের দেওয়া হোক। কিন্তু ইসকন এতে রাজি হয়নি। তারা প্লট বিভক্ত না করার পক্ষে মত দেয় এবং পরে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে। পিটিশন নম্বর-১৫৪০৮/২০২৩।

 

 

এই এলাকার একজন পুরোনো বাসিন্দা মনোরঞ্জন মল্লিক। একসময় বড়কাউ গ্রামে ৯ বিঘা জমিতে তাদের বাড়ি ছিল। সেই জমিসহ সবকিছু সরকার অধিগ্রহণ করেছে। এখন তিনি পরিবার নিয়ে মন্দিরের পাশে থাকেন। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এখানে পাঁচটি গ্রামে হাজার হাজার হিন্দু ছিল। তাদের জন্য মন্দির ছিল ৮-১০টি। এখন পাঁচ গ্রাম মিলে সরকার একটি মাত্র মন্দিরের জায়গা নির্ধারণ করলেও সেটি থেকেও আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। ইসকন নামের যাদের বরাদ্দ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে রাজউক, তাদের কেউ স্থানীয় নয়। তাদের কারও বাড়ি রংপুর, কারও দিনাজপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন জায়গায়। তারা টাকা পয়সা খরচ করে জাল কাগজের মাধ্যমে আমাদের ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে।’

 

 

উত্তরায় ৫২ কোটির সাড়ে ৩৫ কাঠা পেয়েছে ইসকন

পূর্বাচলের আগেই উত্তরায় জমি পেয়েছে ইসকন। ২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর সম্প্রসারিত উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্পের আবাসিক এলাকা ১৭-ই নম্বর সেক্টরের অ্যাভিনিউ ৬ নম্বর সড়কে সাড়ে ৩৫ কাঠার একটি প্লট মাত্র এক লাখ এক টাকা প্রতীকী মূল্যে ইসকনের নামে চূড়ান্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই জমির বাজার মূল্য কাঠাপ্রতি প্রায় দেড় কোটি টাকা। সে হিসাবে এক লাখ টাকায় ইসকনকে দেওয়া ৩৫ কাঠা জমির বাজার মূল্য প্রায় ৫২ কোটি টাকা। এই জমিতে এখন ইসকন রাধাবর্মন টেম্পল নামে মন্দির গড়ে উঠেছে। একই সংস্থাকে একবার জমি দেওয়ার পর আবার দেওয়ার এই নজিরকে নিয়মবিরুদ্ধ বলছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

 

 

এক প্রতিষ্ঠানকে দুইবার জমি দেওয়ার সুযোগ নেই

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ইসকন একটি সংঘ। এটি আমাদের দেশের সাধারণ মূলধারার হিন্দুদের মতো নয়। সরকারের কোনো আবাসিক এলাকায় মসজিদ, মন্দির, গির্জা সেই এলাকার আয়তন ও ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা অনুযায়ী নির্ধারণ হয়। কিন্তু রাষ্ট্র ও রাজউকের আইন অনুযায়ী একটি সংঘকে একবার জমি বরাদ্দ দিলে আরেকবার বরাদ্দ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। উত্তরা প্রকল্পে জমি দেওয়ার পরে আবার যদি পূর্বাচলে দেওয়া হয়, তবে সেটি অনধিকার চর্চা করা হয়েছে। এখানে বাহ্যিক কোনো চাপেই হোক আর অতি উৎসাহেই হোক, এই বরাদ্দে দুর্নীতি হয়েছে।’

 

 

যা বলছে ইসকন

ইসকনের পক্ষ থেকে অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরের হিসাবরক্ষক নটবর গিরিধারী দাস এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ইসকন কারও জমি দখল করে না। মূলত দেবোত্তর বা দানকৃত জমিতেই ইসকন মন্দির ও শিক্ষামূলক কাজ করে। পূর্বাচলের জায়গাটি বর্তমানে যারা আদি বাসিন্দা দাবি করছে, তারাই স্বপ্রণোদিত হয়ে দিয়েছে। এখন এই এলাকার উন্নয়ন হচ্ছে, জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা এসব দাবি করছে।’

 

 

একই মন্দিরের ভূমি ও আইন বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিন্ময় দাস বলেন, ‘যারা আদি বাসিন্দা দাবি করছে, তাদের সবাইকে সরকার প্লট দিয়েছে। সেখানে কোনো মন্দির ছিল না, তাই সরকার আমাদের একটি মন্দিরের জায়গা দিয়েছে। এখন তাদের অনেকে নিজেদের জমি-প্লট বিক্রি করেছে, আবার অনেকের প্লট থাকার পরেও নামমাত্র একটি দুর্গা মন্দির নির্মাণ করে মন্দিরের জায়গা দখল করে বসতি বানিয়ে ফেলছে। নিজেদের জমির টাকায় তারা ভারতে বাড়ি কিনেছে। তারা মূলত সরকারের সঙ্গে প্রতারণা করছে। আর আমাদের মন্দিরে যারা বসবাস করে, তাদের কোনো জমিজমা, সম্পদ, স্ত্রী কিছুই নেই। তারা শুধু সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনার জন্য সেখানে আছেন। আমরা এটির সব অর্থ পরিশোধ করেছি।’

 

 

জানেন না রাজউক চেয়ারম্যান

বিষয়টি নিয়ে রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ সম্পর্কে কিছু জানে না বলে জানান। তিনি বলেন, ‘এ সম্পর্কে আমার জানা ছিল না। কাগজপত্র দেখে জেনে মন্তব্য করতে হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category