• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ন

অব্যাহত আছে দুর্নীতি

স্টাফ রিপোর্টার / ১৬৪ Time View
Update : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

বিশ্বব্যাপী ৯ ডিসেম্বর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। ২০০৩ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে ‘ইউএন কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট করাপশন (UNCAC)’ অনুমোদনের মধ্য দিয়ে যে পথচলার সূচনা, আজ তা বৈশ্বিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত অনিয়ম থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের স্বচ্ছতা সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি এখন উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও জনজীবনের বড় অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত। তাই এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
প্রতিরোধের অগ্রনায়ক যুবসমাজ
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতায় সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তি হলো তরুণ প্রজন্ম। প্রযুক্তি- সচেতন এই প্রজন্ম দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রচার করতে পারে; অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার মানসিকতাও তাদের প্রবল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সবখানে দুর্নীতিবিরোধী মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে তাদের ভূমিকা অপরিহার্য। দেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে স্কুল-কলেজে ‘সততা মূল্যবোধ চর্চা কমিটি’, ইন্টিগ্রিটি ক্লাব, প্রতিযোগিতা, বিতর্ক ও নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সামাজিক মাধ্যমেও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ছে, যা মাঠপর্যায়ের তৃণমূল প্রচেষ্টার সঙ্গে মিশে একটি সম্মিলিত শক্তিতে পরিণত হচ্ছে।
দুর্নীতি উন্নয়নের অন্তরায়
দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না; এটি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ, জনসেবা, অবকাঠামো, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, এমনকি বিচার ব্যবস্থাকেও দুর্বল করে তোলে। রিপোর্টে দেখা যায়, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যয় বাড়ে, সময় বাড়ে, অথচ মান কমে যায়। এর মৌলিক ক্ষতি বহন করে সাধারণ মানুষ যাদের জন্যই প্রকল্পগুলো গ্রহণ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুর্নীতি কমাতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ, সততার চর্চা এবং দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কাঠামো চাই। পরিবার, স্কুল, সমাজ ও প্রশাসন সব পর্যায়ে সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে দুর্নীতি হ্রাস করতে।
সচেতনতা কার্যক্রম
আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসকে কেন্দ্র করে অভয়নগর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন, শপথ অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী এসব কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা জাগছে। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। অনেকেই জানিয়েছেন ‘দুর্নীতিকে না বলতে শিখতে হবে প্রথমে পরিবারে, পরে সমাজে।’ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, ভবদহ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল মতলেব সরদার বলেন, ‘আমরা চাই তরুণরাই হোক পরিবর্তনের চালিকাশক্তি। কারণ ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনা তাদের হাতে।’
আইন নয়, নৈতিকতার শক্তিই সবচেয়ে বড় অস্ত্র যে সমাজে দুর্নীতিকে লজ্জাজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেখানে দুর্নীতি করার সুযোগ থাকলেও মানুষ তা করতে সাহস পায় না। তাই একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তক সমাজ গড়তে শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, সাধারণ মানুষেরও সচেতনতা প্রয়োজন। প্রতি বছর এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় দুর্নীতি কোনো ব্যক্তির সমস্যা নয়, এটি উন্নয়নের অন্যতম বড় বাধা। তাই পরিবার থেকে রাষ্ট্র সব স্তরে সততার মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা জরুরি। ২০২৫ সালের প্রতিপাদ্য বার্তা খুবই স্পষ্ট তরুণরাই পারে আগামীর শুদ্ধতা গড়ে তুলতে। তাদের একতা, সততা ও সাহসিকতাই দুর্নীতিমুক্ত সমাজের ভিত্তি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিটি ছোট পদক্ষেপই বড় পরিবর্তনের সূচনা। প্রয়োজন শুধু সচেতনতা, দৃঢ় মনোভাব এবং সম্মিলিত প্রয়াস। আসুন, আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ২০২৫-এ আমরা অঙ্গীকার করি- দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা গড়বে আগামীর স্বচ্ছতা, ন্যায়, উন্নয়ন ও শুদ্ধতা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category