শিবচরে স্কুলছাত্রী সুমাইয়ার আত্মহত্যা: দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চান্দের চর বাজারে স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তারকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে—এমন অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন তার সহপাঠী, বন্ধু-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা।
সুমাইয়া আজিফা রবিউল্লাহ লাইসিয়াম উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সুমাইয়া নিয়মিত ও শান্ত স্বভাবের ছাত্রী ছিল। বুধবারও স্কুলে এসেছে। কিন্তু পরদিন তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। কেউ তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তিনি।
গত ১৯ অক্টোবর সুমাইয়া আক্তার (১৬) নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, সুমাইয়ার সঙ্গে রিফাত উকিল নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় প্রভাবশালী ইব্রাহিম মাদবর, রিফাত মাতবর ও নয়নসহ কয়েকজন তাকে বাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষায় অপমান করেন। অপমান সহ্য করতে না পেরে সুমাইয়া আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও বন্ধুরা বলেন, সুমাইয়া খুবই ভদ্র ও শান্ত মেয়ে ছিল। তার নামে কখনো কোনো অভিযোগ ছিল না। তাকে অপমান করে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তারা।
সুমাইয়ার স্বজনরা শিবচর থানার এসআই আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাকা দাবি ও আপসে মীমাংসা করার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তারা বলেন, আইন যদি আমাদের কাছ থেকে টাকা চায়, তাহলে আমরা কোথায় যাব।
এ বিষয়ে শিবচর থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, এখন সামান্য কিছু হলেই মানুষ পুলিশকে দোষারোপ করে। এসআই আমিনুল ইসলাম টাকা চেয়েছেন—এমন কোনো প্রমাণ দিতে পারলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
স্থানীয়রা বলেন, আর কোনো সুমাইয়া যেন এভাবে অকালে ঝরে না যায়, তাই দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। উপযুক্ত শাস্তি না হলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে থাকবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।