নোয়াখালীর হাতিয়ায় যুবদল নেতার ল্যাবে রোগী না দেওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শেখ মাহমুদুর রহমানের অফিসে ঢুকে হেনস্তা করেন যুবদলের এক নেতা। এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত হাতিয়া পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক মোমিন উল্যা রাসেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা যুবদল।
সোমবার দুপুরে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আজিম সুমন। রোববার ৩১ আগস্ট দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই চিকিৎসককে হেনস্তা করা হয়। রাতে অভিযুক্ত যুবদল নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় জেলা যুবদল।
এদিকে চিকিৎসককে তার অফিসে ঢুকে হেনস্তা ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদে সকাল থেকে হাতিয়ার চিকিৎসকরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী চিকিৎসক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হাতিয়া পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক মোমিন উল্যাহ রাসেলসহ কয়েকজন যৌথ মালিকানায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন ওছখালীতে হাতিয়া পপুলার ডায়াগনস্টিক নামে একটি ল্যাব পরিচালনা করে আসছে।
রোববার ওই ল্যাবের পার্টনার রাউফুল পার্শ্ববর্তী মেঘনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি ল্যাবে রোগী দেওয়ায় ডা. শেখ মো. মাহমুদুর রহমানকে মুঠোফোনে কল দেন।
একপর্যায়ে রাউফুল চিকিৎসক মাহমুদুর রহমানকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেন। তখন তিনি বলেন, কিভাবে পোড়াবেন সামনে আসেন।
বেলা পৌনে ১২টার দিকে যুবদল নেতা রাসেল ও রাউফুলসহ তিনজন মারমুখী হয়ে ডা. শেখ মো. মাহমুদুর রহমানের অফিস কক্ষে ঢুকে পড়েন। পরবর্তীতে তাকে অশ্লীল গালিগালাজ করে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন এবং পুলিশের সামনেই চিকিৎসক মাহমুদুর রহমানকে মারধর ও হেনস্তা করেন।
এ সময় হেনস্তার শিকার চিকিৎসক জীবন বাঁচাতে নিজের মুঠোফোনে ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায় আমার জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই, অবশ্যই আমি ভিডিও করব।
এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক উল্যাহ রাসেল বলেন, ওখানে আমাকে অপমান-অপদস্ত করা হয়েছে। ডাক্তার মানছুর, রিয়াজ, বিউটি ডাক্তার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানসী রায় সরকারের থেকে বক্তব্য নেন। প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে আমাকে ভিকটিম বানানো হয়েছে। উনারাই বলে দিবে ডাক্তার কি আচরণ করেছে।
এদিকে অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে হাতিয়া পপুলার ডায়গনস্টিকের পার্টনার নাজমুল হোসেন রাউফুল বলেন, ডাক্তার মাহমুদুর রহমান অকারণে রোগীদের বিভিন্ন ল্যাব টেস্ট দিয়ে থাকেন। আল্ট্রা টেস্টগুলো তার স্ত্রীকে দিতে বাধ্য করেন।
নোয়াখালী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আজিম সুমন বলেন, একটি ভিডিও আমরা পেয়েছি, এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আরেক গ্রুপের বক্তব্য হচ্ছে, এটা নিয়ে একটু তর্কবিতর্ক হইছে। আমরা তাকে কারণ দর্শনো নোটিশ দিয়েছি। নোটিশের জবাব দুদিনের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকারের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
হাতিয়া থানার ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, ঘটনা কি ঘটেছে তা ভিডিওতে দেখেছেন। উনি ওনার সরকারি চেম্বারে বসে রোগী রেফার করেছে মেঘনা ডায়গনস্টিক সেন্টারে টেস্টের জন্য। পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে এসে বলেছে আপনি প্রতিটি রোগী পাঠান মেঘনা ডায়গনস্টিক সেন্টারে। পপুলারেও লিখতে পারেন, এটা নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে।
চিকিৎসককে তার অফিসে ঢুকে হেনস্তা ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে কিনা– এমন প্রশ্ন করা হলে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে জেনে জানাতে হবে।








