• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক দেড় হাজার কোটি টাকার সুফল প্রকল্পে দুর্নীতির নথিপত্র সংগ্রহ দুদকের দুর্নীতির দায়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বরখাস্ত অনেক গুরুতর প্রশ্নের মুখে সাহাবুদ্দিন সাবেক রাষ্ট্রপতির অতীত কার্যক্রম যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক পুলিশ কর্মকর্তার, বিচার দাবি স্ত্রীর সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি ২ কোটি টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদ কারাগারে এনবিআরে ৩ কমিশনারের পদে রদবদল, কাস্টমস গোয়েন্দায় নতুন মহাপরিচালক জিয়াউলের ভবনে সাদা সোনাসহ শত কোটি টাকার সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক

যুক্তরাষ্ট্রে ফেড গভর্নরের অপসারণ আটকে দিলেন আদালত

স্টাফ রিপোর্টার / ৯৯ Time View
Update : সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে অপসারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ গতকাল মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালত সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে আগে কোনো প্রেসিডেন্ট কখনো ফেড গভর্নরকে সরাননি। তাই এ নিয়ে শুরু হওয়া নজিরবিহীন আইনি লড়াইকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘদিনের স্বাধীনতার জন্য এক বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন আদালতের ওই আদেশের ফলে হোয়াইট হাউসও এ আইনি লড়াইয়ে প্রাথমিক বাধার মুখে পড়ল।

ওয়াশিংটন ডিসির ডিস্ট্রিক্ট জজ জিয়া কব এক অন্তর্বর্তী রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, লিসা কুক ফেডে যোগদানের আগে বন্ধকি ঋণ নিয়ে জালিয়াতি করেছেন, এটি তাঁকে অপসারণের পক্ষে যথেষ্ট কারণ নয়।

লিসা কুক শুরু থেকেই এমন জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

রায়ে বিচারক বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন পর্যন্ত কুকের কর্মকাণ্ড বা বোর্ড সদস্য হিসেবে তাঁর কর্মদক্ষতা নিয়ে এমন কিছু দেখাতে পারেননি, যা থেকে বোঝা যায় তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে জনগণ বা বোর্ডের ক্ষতি করছেন।

গত আগস্টের শেষদিকে ট্রাম্প কুককে বরখাস্ত করার উদ্যোগ নেন। তবে ফেড জানায়, তিনি এখনো তাঁর পদে রয়েছেন। রায় নিয়ে ফেড কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।

বিচারকের এ রায় কুককে সরানোর প্রক্রিয়া থেকে ফেডকে কার্যত বিরত রাখছে, যতদিন এ মামলা চলমান থাকে।

এ মামলা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলাফল ফেডের সুদের হার নির্ধারণের স্বাধীনতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, রাজনৈতিক চাপমুক্ত থেকে সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করা যেকোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্প প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এখনই দ্রুত সুদের হার কমাতে হবে। তিনি ফেড চেয়ার জেরোম পাওয়েলের আর্থিক নীতি পরিচালনারও কড়া সমালোচনা করেছেন। ফেড ১৬–১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার কমাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। আদালতের রায় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নেও ট্রাম্প কোনো উত্তর দেননি।

কুকের আইনজীবী অ্যাবি লোয়েল এক বিবৃতিতে বলেন, এ রায় অবৈধ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতাকে রক্ষা করার গুরুত্ব নতুন করে স্বীকার করেছে।

ফেড প্রতিষ্ঠার আইনে বলা হয়েছে, গভর্নরকে শুধু ‘কারণ দেখিয়ে’ অপসারণ করা যাবে। তবে আইনে ‘কারণ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয় এবং এর জন্য কোনো প্রক্রিয়াও নির্ধারিত নেই। ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্ট ফেড গভর্নরকে অপসারণ করেননি।

বিচারক কব রায়ে বলেন, আইন অনুযায়ী ‘সেরা ব্যাখ্যা’ হলো, কোনো গভর্নরকে শুধু পদে থাকার সময় অসদাচরণের জন্যই অপসারণ করা যাবে। কিন্তু কুকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সবই ২০২২ সালে মার্কিন সিনেটে তাঁর নিয়োগ অনুমোদন পাওয়ার আগের সময়ের।

মার্কিন বিচার বিভাগও কুকের বিরুদ্ধে মর্টগেজ জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। জর্জিয়া ও মিশিগান থেকে গ্র্যান্ড জুরির সমনও জারি করা হয়েছে বলে রয়টার্সের হাতে থাকা নথি ও সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে।

লিসা কুক ট্রাম্প ও ফেডের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগ প্রেসিডেন্টকে তাঁকে অপসারণের আইনি অধিকার দেয় না; বরং তাঁর আর্থিক নীতি নিয়ে অবস্থানের কারণে তাঁকে সরানোর চেষ্টা চলছে।

লিসা কুক ফেডারেল রিজার্ভের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর। তিনি আদালতে দাখিল করা নথিতে জালিয়াতির অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি কখনোই মর্টগেজ জালিয়াতি করিনি।’

কুকের আরও যুক্তি, অভিযোগগুলো সত্য হলেও সেগুলো সিনেটে তাঁর নিয়োগ অনুমোদন পাওয়ার আগে ঘটেছিল। তাই এর ভিত্তিতে তাঁকে সরানো যায় না।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, প্রেসিডেন্টের ব্যাপক এখতিয়ার রয়েছে। তিনি যখন মনে করবেন, তখনই ফেড গভর্নরকে অপসারণ করতে পারেন। আর আদালতের এসব সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করার এখতিয়ার নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category