• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
দুর্নীতির মামলা: সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি এনবিআরের চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব ঘুস-দুর্নীতির অভিযোগে মোংলা কাস্টমস কর্মকর্তার অপসারণ দাবি স্ত্রী-শ্যালকসহ সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা প্রশ্নফাঁসের শাস্তি, সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় বদলি! দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দল ছাড়লেন গণঅধিকার পরিষদ নেতা দুর্নীতির অভিযোগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কাজ না করেই ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিল প্রদান খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে দুর্নীতি: দুই ঠিকাদারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা স্থানীয় সরকার বিভাগের ১৭ বছরের দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে প্রতিবেদন দুদকে ঘুস-দুর্নীতির অভিযোগে মোংলা কাস্টমস কর্মকর্তার অপসারণ দাবি

বগুড়ায় দুদকের গণশুনানিতে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ বলতে না পারায় জুতা নিক্ষেপ

স্টাফ রিপোর্টার / ৯৫ Time View
Update : রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫

বগুড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানি অনুষ্ঠানে জুতা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার বগুড়ার শহীদ টিটু মিলনায়তনে আয়োজিত এই গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।

আয়োজক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ শোনার জন্য এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়। এ জন্য সপ্তাহখানেক ধরে মাইকিং করে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ জমা নেয় দুদক। এসব অভিযোগ নিয়ে আজ গণশুনানি শুরু হয়। এই শুনানি চলাকালে বেলা পৌনে ১১টার দিকে দর্শক সারিতে থাকা সাখাওয়াত হোসেন মণ্ডল নামের এক ব্যক্তি সরাসরি অভিযোগ জানাতে চান। তবে সরাসরি অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দেন দুদক কর্মকর্তারা। অভিযোগ দিতে না পেরে ক্ষোভে মঞ্চ লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেন সাখাওয়াত। অবশ্য সেই জুতা মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। তাৎক্ষণিক ওই ব্যক্তিকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হলেও পরে অভিযোগ শোনার আশ্বাস দিয়ে দর্শক সারিতে বসিয়ে রাখা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর অভিযোগ শুনানি না করেই অনুষ্ঠান শেষ হয়।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গণশুনানির জন্য ১৫ দিন ধরে ৩২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৯৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে দুদকে শুনানিযোগ্য ছিল ৬৭টি। এর মধ্যে ৫৭ জনের করা অভিযোগের গণশুনানি করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে জুতা নিক্ষেপের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দুদকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুতা নিক্ষেপের ঘটনা কোথায় ঘটেছে? এ রকম কিছু আমি শুনিনি, দেখিনি।’

দুদকের অভ্যন্তরেও দুর্নীতি আছে মন্তব্য করে গণশুনানিতে মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, বগুড়ার সন্তান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খ্যাতি ছিল তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন না, দুনীতি প্রশ্রয়ও দিতেন না। বগুড়াবাসী কখনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না। তিনি বলেন, দুদক কর্মকর্তারা কী করছেন, সেদিকেও সবাইকে নজর রাখতে হবে, যাতে কেউ দুনীতিগ্রস্ত হয়ে না পড়েন। কাজ হোক বা না হোক, কেউ ঘুষ দেবেন না। সরকারি চাকরি যাঁরা করেন, সেবাপ্রত্যাশীদের কাজ তাঁদের করতেই হবে, কাজ না করার কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠান শেষে দুদক কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোমেন গণশুনানিতে আসা ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেন, দুর্নীতি সমাজকে কলুষিত করে এবং দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। দেশের বৃহৎ স্বার্থে দুর্নীতি রোধ করতে হবে। তবে দুদকের একার পক্ষে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে একাট্টা হতে হবে, নিজ নিজ অবস্থান থেকে দুর্নীতিকে রুখে দিতে হবে।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আখতার হোসেন, দুদকের বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাহফুজ ইকবাল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জুতা নিক্ষেপ করা সাখাওয়াত হোসেন পেশায় মৎস্যচাষি। তাঁর বাড়ি সোনাতলা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নে। তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে জানান, তিনি বিভিন্ন এলাকায় পুকুর ও বিল ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করেন। ২০১২ সালে তিনি বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার গারামারা গ্রামে তিনটি বিল ও তিনটি পুকুর বার্ষিক ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ইজারা নেন। ২১ লাখ টাকা খরচ করে মাছ ছাড়েন। স্থানীয় বিরোধের জেরে ২০১৫ সালের ১৭ মে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নানের ছোট ভাই ও সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মিনহাদুজ্জামান লিটন একটি বিশাল বিল জবর দখল করেন। এ নিয়ে প্রশাসন, পুলিশ থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মানবাধিকার কমিশন ও সেনাবাহিনীর কাছেও অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাননি। গত জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আরও কয়েকটি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো বিচার পাননি। বাধ্য হয়ে বগুড়ায় দুদকের গণশুনানিতে অভিযোগ দিতে এসেছিলেন।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সব দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও বিচার পাইনি। মানবাধিকার কমিশন দুবার আমার পক্ষে রায় দিলেও কোনো কাজ হয়নি। দুদকের এ গণশুনানি শুধু লোকদেখানো। রাগে ক্ষোভে মঞ্চ লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেছি। এতে অপরাধ হলে জেলে যেতেও রাজি আছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপপরিচালক মাহফুজ ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, গণশুনানি ছিল বগুড়া সদরের। সাখাওয়াত হোসেন সোনাতলা উপজেলার অভিযোগ নিয়ে আসেন। তাৎক্ষণিক অভিযোগ নেওয়ার সুযোগ ছিল না। এ কারণে তাঁর অভিযোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

শুনানিতে ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কথিত দুই কর্মকর্তাকে আটক করা ছাড়াও অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে উপস্থিত না থাকায় পদ্মা ইনস্যুরেন্সের স্থানীয় কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন দুদক চেয়ারম্যান। এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চার লেন প্রকল্প এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেওয়া বাঙালি নদ খনন প্রকল্পের দুর্নীতি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category