বাংলাদেশ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, দিনাজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-এ ভুক্তভোগী নিজেই এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে কাস্টমসের ওই যুগ্ম কমিশনারসহ আরো কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্ত কাস্টমস কর্মকর্তা মাজেদুল হক দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
এছাড়া, মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে—অভিযুক্তের নির্দেশে আনোয়ার নামে এক ব্যক্তি ২০০ থেকে ৩০০ লোক নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তার বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
এদিকে, মামলার পর ভুক্তভোগীর ওপর চাপ সৃষ্টি ও হুমকির অভিযোগে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় আরেকটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে মো. রাজন, মো. ভূট্টু, মো. মোজাফ্ফর রহমান (মনজু), মো. আহসান সহ ২০-২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মামলাটি তুলে নিতে অভিযুক্তরা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে নিয়মিত ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। এমনকি ভুক্তভোগীকে একা দেখা না করলে অপহরণ ও গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে করে অস্ত্রসজ্জিত একটি দল দিনাজপুরের কসবা খোয়ারের মোড়ে ভুক্তভোগীর বাবার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করে।
এক পর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। পরে পুলিশ আসার আগেই হামলাকারীরা তাকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে রেখে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এছাড়া পূর্বেও ভুক্তভোগীর পরিবারের ওপর হামলা, দোকান ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায় , রংপুর কাস্টমসের তৎকালীন কমিশনার অরুণ কুমার রায়ের কাছে ভুক্তভোগী পারুল বেগম মৌখিক অভিযোগ দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভুক্তভোগীকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয় এবং জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা।
ভুক্তভোগী মামলায় আরও উল্লেখ করেন, প্রাণনাশের আশঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করতে পারেননি। এমনকি বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মাজেদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার স্ত্রী বিলকিস বেগম ও পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।