• শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
পি কে হালদারের সহযোগী নওশেরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দুর্নীতির মামলা বেড়েছে, সাজা কম বেবিচকের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয়ের কোটি টাকার সম্পদের হিসাব তলব ঘুষ হিসেবে জমি নিয়ে ফাঁসলেন উপ-সচিবসহ ৫ জন সিভিল এভিয়েশনে শত কোটি টাকার দুর্নীতি দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে দায়মুক্তি উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতির মামলায় এস কে সুরের স্ত্রীর ২ বছরের কারাদণ্ড গাজীপুর জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত শুরু আসিফের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান: এনসিপি বলল দুদকের দলীয়করণ স্পষ্ট

দিনাজপুরে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার / ২৪২ Time View
Update : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকার সময়ের অনিয়ম দুর্নীতি চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হলেও দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে তার উল্টোটা। ছাত্র জনতার রক্তে রঞ্জিত জুলাই-আগষ্ট বিল্পবের পর প্রো-ভিসিসহ কয়েকজন শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী রক্তহরণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে অর্থের খেলায় মেতে উঠে। অর্থ পিপাসু ভিসির বিরুদ্ধে ৮ লাখ টাকার কাজ ২৮ লাখ বানিয়ে উদ্বৃত্ত পুরো টাকাটাই হজম করা নিয়ে অশিক্ষিত এক কাঠ মিস্ত্রির অডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে স্পষ্টভাবে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ে নিয়োগকৃত ৫৯ জন শিক্ষক কর্মচারীদের কনফার্মেশন করা এবং পদোন্নতি দেয়ার। ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়ার সময় তৎকালীন ভিসির অনিয়ম করে নিয়োগ দেয়ার স্বীকারোক্তি মুচলেকা দেয়ার পরও সেই কর্মকর্তাদের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ছাড়াই নিয়মিতভাবে বেতন ভাতা প্রদানসহ টেন্ডার ও ইজিপিতেও জালিয়াতি ও ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে কোটি টাকার কাজ নিজ পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করানোর অভিযোগ রয়েছে ভিসির বিরুদ্ধে। জুলাই-আগস্ট বিল্পবের ফল অনুধাবন করে জাতীয়তাবাদীর পৃথক প্লাটফর্ম তৈরি করা কয়েকজন শিক্ষক সরাসরি সহযোগী হিসাবে কাজ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুদক ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতি নিয়ে কাগজপত্র জব্দ করলেও মাঝপথে সব থেমে গেছে। অভিযোগ রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশেষ একটি দলের ছত্রছায়ায় বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাঙ্গন দখলের সাথে জড়িত থাকার কারণে দুর্নীতি উৎঘাটন বা ব্যবস্থা গ্রহণ কোনটাই করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ বিএনপির নিরঙ্কুস বিজয় ও প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার উত্তরসূরী তারেক রহমানের প্রধান দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টরালেন্স নীতি বিষয়টি উপলব্ধি করে শেষ মুহুর্তে ফ্যাসিস্ট সরকারের লীগ ও প্রগতিশীল গ্রুপের পদধারীদের লোভনীয় সেকশনে বদলি বাণিজ্য শুরু করে দিয়েছে। উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকল্পে ৫শ’ ৭০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজের লুটপাটের পথ তৈরি করার। সাসপেন্ড করা হয়েছে কাঠ মিস্ত্রির সাথে মোবাইলে ভিসির দুর্নীতির কথোপকথনের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামকে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়েছে প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের।

দিনাজপুরে অবস্থিত উত্তরাঞ্চলের অন্যতম উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এক নায়কতন্ত্র কায়েম হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি দলের হাতে জিম্মি হয়ে থাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশির্বাদপুষ্ট প্রো-ভিসি আইনের তোয়াক্কা না করে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ে গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে দলীয় লোকদের শিক্ষক ও কর্মচারী হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভালোভাবে যাচাই বাচাই না করে এবং কোনো প্রকার পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই ২০২৫ এর ২৭ ফেব্রুয়ারি ৫৮ তম রিজেন্ট বোর্ডের সভায় ৫৯ জন শিক্ষককে স্থায়ীকরণ করে চার মাসের মধ্যেই তাদেরকে প্রমোশন দিয়ে দেয়া হয়। অথচ ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়োগ বা পদোন্নতি দেয়া থেকে বিরত রয়েছেন বর্তমান ভিসি। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে চরম কষ্টে থাকা বিএনপি অনুসারী ঠিকাদারদের কোটি টাকার বিল আটকে রেখে নিজ পছন্দের লোকদের দিয়ে কাজ করানোর মাধ্যমে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। অত্যন্ত দুঃখজনক ও সাংবাদিক পদে থাকা ভিসি কর্তৃক গেস্ট হাউস রিনোভিশেন করার নামে লাখ লাখ টাকার অডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপার সৃষ্টি করলেও ভিসি বহাল তবিয়তে এবং আরো বেপরোয়াভাবে দুর্নীতি চালিয়ে যেতে থাকেন।

অডিও কথোপকথনে অনুকুল বালাকে বলতে শোনা যায় আমি অশিক্ষিত হলেও আমি কিন্তু ভিসিকে চেকের মাধ্যমে টাকা দিয়েছি। এর পরের গল্প আরো হাস্যকর অনুকুল বালার প্রতিষ্ঠান ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের নামে সমুদয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে চার লাখ ৬৪ হাজার ২৩৪, চার লাখ ৭৪ হাজার ৫৬৯ টাকা, চার লাখ ৭৩ হাজার ৬২৯ টাকা এবং চার লাখ ৭৩ হাজার ১৯১ মোট আঠারো লাখ ৮৫ হাজার ৬২৩ টাকার চারটি চেক ইস্যু করে ভিসির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ব্যাপারে দৈনিক ইনকিলাবে খবর প্রকাশ হলে ভিসি মহোদয় ও সংশ্লিষ্ট সহযোগী কর্মকর্তাদের অবস্থা না পারি কইতে না পারি সইতে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়। সবশেষে ১৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩৩ টাকা উগলে দিয়ে নিজেদের দায় মুক্তির পথ তৈরি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কাজ সম্পন্ন না করেই ক্ষমতার জোড়ে উক্ত টাকার চেকগুলো খোড়া ও অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে চেকগুলো হিসাব শাখায় ফেরত দেয়া হয়েছে। কিন্ত কাজ সম্পন্ন হওয়া সাপেক্ষে ঠিকাদারের অনুকুলে চেকগুলো অর্থাৎ বিল অনুমোদন সাপেক্ষে চেকগুলো ইস্যু করেছিল ভিসি নিজেই এবং একজন অফিস পিওনের মাধ্যমে চেকগুলো প্রো-ভিসি গ্রহণও করেছিলো একটি সূত্র জানিয়েছে।

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় জুলাই-আগস্ট বিল্পবের পর দেশব্যাপী দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান শুরু করে তৎকালিন দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। ঢাক ঢোল পিটিয়ে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগের কাগজপত্র সিজ করে।

উল্লেখ্য ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের একাধিক কর্মকর্তাকে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিলের পত্র দেয়া হয়। পরে পত্র পাওয়া কর্মকর্তারা ঢাকায় যেয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা করে দায়মুক্তি নিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category