• শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
পি কে হালদারের সহযোগী নওশেরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দুর্নীতির মামলা বেড়েছে, সাজা কম বেবিচকের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয়ের কোটি টাকার সম্পদের হিসাব তলব ঘুষ হিসেবে জমি নিয়ে ফাঁসলেন উপ-সচিবসহ ৫ জন সিভিল এভিয়েশনে শত কোটি টাকার দুর্নীতি দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে দায়মুক্তি উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতির মামলায় এস কে সুরের স্ত্রীর ২ বছরের কারাদণ্ড গাজীপুর জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত শুরু আসিফের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান: এনসিপি বলল দুদকের দলীয়করণ স্পষ্ট

গভর্নরের নিয়োগ বাতিল ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান টিআইবির

স্টাফ রিপোর্টার / ১৯৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নরের নিয়োগ বাতিল এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারকে কেবল মুখে নয়, বরং দলীয় পর্যায়ে কঠোর বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের প্রতি একগুচ্ছ সুপারিশমালা পেশ করার সময় এসব কথা বলেন। রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের নিয়োগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে যে, নবনিযুক্ত গভর্নরের ক্ষেত্রে জোড়ালো স্বার্থের সংঘাত বিদ্যমান। টিআইবির মতে, এমন নেতৃত্বের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিরাপদ নয় এবং এর ফলে নজরদারি সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের সুযোগ বিঘ্নিত হবে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের নিয়োগের মাধ্যমে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বা অর্থপাচারকারী শীর্ষ ব্যক্তিরা পুনরায় কর্তৃত্ব ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে, যা রাষ্ট্রের জন্য কোনোভাবেই কল্যাণকর হবে ন। তাই এই নিয়োগ বাতিল করে একজন সৎ, অভিজ্ঞ এবং স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুধু ঘোষণা নয়, চাই প্রয়োগ

সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ বা জিরো টলারেন্সের ঘোষণাটি যেন কেবল সাধারণ জনগণের উদ্দেশে দেওয়া কোনো বক্তৃতা না হয়।

তিনি সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই বার্তাটি নিজের দল, মন্ত্রিপরিষদ, সংসদ সদস্য এবং সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান যেন সরকারের অভ্যন্তরীণ চর্চায় প্রতিফলিত হয়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এবার আমাদের পালার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে

ড. ইফতেখারুজ্জামান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দৃশ্যমান ‘এবার আমাদের পালা’ বা দখলদারিত্বের সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আগে অন্যরা দুর্নীতি করেছে বলে এখন আমাদের কর্মীরা করবে—এই মানসিকতা বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক বা সরকারি অবস্থানকে যেন দুর্নীতির ‘লাইসেন্স’ হিসেবে ব্যবহার করা না হয়, সেজন্য দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোর নির্দেশনা ও নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সরকার যদি তার অভ্যন্তরে থাকা দুর্নীতিবাজ বা স্বার্থান্বেষী মহলের ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে তাদের সকল সংস্কার উদ্যোগ আত্মঘাতী হয়ে উঠতে পারে। সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category