• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
জমি, পাঁচতলা বাড়ি, স্ত্রীর নামে নগদ টাকাসহ যত অবৈধ সম্পদ ওয়াসার গাড়িচালক তাজুলের দুর্নীতির মামলায় সাবেক কর কর্মকর্তা শ্যামলের ৫ বছরের কারাদণ্ড স্বাস্থ্য খাতকে দুর্নীতির মাধ্যমে ভেঙে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেনজীরের দুর্নীতির মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্য মোদি–আদানির সম্পর্ক আর দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা দুর্নীতির মামলা: সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি এনবিআরের চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব ঘুস-দুর্নীতির অভিযোগে মোংলা কাস্টমস কর্মকর্তার অপসারণ দাবি স্ত্রী-শ্যালকসহ সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা প্রশ্নফাঁসের শাস্তি, সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় বদলি!

ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে ৭৫ কোটি টাকা ঘুষ নেন আনিসুল হক!

স্টাফ রিপোর্টার / ২৬০ Time View
Update : শনিবার, ৫ জুলাই, ২০২৫

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক তার ঘনিষ্ঠ পাঁচ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৭৫ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন। ২০১৯ ও ২০২০ সালের বিভিন্ন সময়ে ৪০ দফায় ওই টাকা গ্রহণ করা হয়। বিভিন্ন তদবির বাণিজ্যে অংশ নিয়ে আনিসুল হক আত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের এ ঘুষ গ্রহণ করেন।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) সূত্রে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।

তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, চতুর আনিসুল হক ঘুষ বা অবৈধ আয় গ্রহণে তার ব্যবসায়িক বন্ধু, মা, ভাইয়ের স্ত্রী, ভাগিনা ও কথিত বান্ধবী তৌফিকা করিমের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেছেন। ওই ব্যাংক হিসাবগুলোর একমাত্র নমিনি ছিলেন তিনি। মায়ের ক্ষেত্রে নমিনি হওয়ার যৌক্তিক কারণ থাকলেও অন্য ঘনিষ্ঠদের ব্যাংক হিসাবগুলোর নমিনিতে তার নাম থাকার বিষয়টি সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। ইতোমধ্যে ঘনিষ্ঠদের ব্যাংক হিসাবগুলোর বিবরণী দুদকেও জমা হয়েছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, একমাত্র নমিনি হিসেবে আনিসুল হকের নাম থাকা ঘনিষ্ঠ পাঁচজনের অ্যাকাউন্টে ওই সময়ে ৭৫ কোটি ২২ লাখ টাকা নগদ বা ক্যাশ হিসাবে জমা হয়। অর্থগুলো কোনো ব্যাংক হিসাব থেকে তাদের হিসাবে স্থানান্তর হয়নি। সরাসরি জমা হয়েছে, যা থেকে মূলত সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অর্থের উৎস গোপন করতেই এমন কৌশল নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। ফ্রিজ করা হয়েছে ২৭টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ১৪০ কোটি ১৭ লাখ টাকা। মামলা হয়েছে আনিসুল হকের কথিত বান্ধবী তৌফিকা আফতাব ওরফে তৌফিকা করিমের বিরুদ্ধেও। তার বিরুদ্ধে ৫৬ কোটি ৬১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা হয়েছে।

অনিসুল হকের মামলার অগ্রগতিসহ সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘তার (অনিসুল হক) বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ ও সন্দেহভাজন লেনদেনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর তদন্ত কার্যক্রম চলমান। তদন্ত কর্মকর্তা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কমিশন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবেন।’

যাদের হিসাবে ঘুষের টাকা জমা হয়েছিল

আনিসুল হক তার ঘনিষ্ঠ পাঁচ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নগদ ৭৫ কোটি ২২ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এমন আরও ব্যক্তি রয়েছেন যাদের মাধ্যমে ঘুষ নেওয়া হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। সবগুলোর তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে না পারলেও ঘনিষ্ঠ পাঁচজনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে ঘুষের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে দুদক। ওই পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন- আনিসুল হকের ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ ইকবাল (ব্যাংক হিসাবের নাম)। যার ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ০৯৫*************৯২ হিসাবে ২০১৯ থেকে ২০২০ সালে সাত দফায় নগদ ১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জমা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরে এককালীন সর্বোচ্চ চার কোটি ৯৯ লাখ টাকা নগদ জমার তথ্য রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category