• শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
সচিব হতে ৩৩ কোটি টাকার চুক্তি হতে পারলে সুদ দিবেন ৮৬ কোটি টাকা ৬ তলা বাড়ি সহ ১০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা রাসেল কবির সনদ জালিয়াতি থেকে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, তবুও বহাল তবিয়তে মালা খান! দুর্নীতির অভিযোগে বদলি কর্মকর্তার পক্ষে ফেসবুক পোস্ট, নিজেও ‘একই অপরাধ’ করার দাবি খাদ্য কর্মকর্তার দুর্নীতি রুখতে নয়া ভাবনা, জি–রামজি প্রকল্পে ফেস রেকগনিশন স্থানীয় সরকারে ১৭ বছরের দুর্নীতির অনুসন্ধানে ৭ সদস্যের কমিটি টেন্ডার না পেয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে মিলছে ভিন্ন চিত্র বিপিসি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ও তার স্ত্রীর শত কোটি টাকার সম্পদ, ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয় সরকার বিভাগের ১৭ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি খুঁজতে সাত সদস্যের কমিটি এলজিইডিতে ‘৬ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি’: পিরোজপুরে বন্ধ উন্নয়নকাজ শুরু হবে ঈদের পর

ঘুষ, সম্পদ, দুর্নীতি : আবদুর রশিদের ‘অবৈধ সাম্রাজ্য

স্টাফ রিপোর্টার / ১৯৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

বিশেষ প্রতিবেদক : দুর্নীতিতে ‘ওস্তাদ’ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুর রশিদ মিয়া চাকরিজীবনে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে বহু অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণও মিলেছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

অবৈধ সম্পদের পাহাড়: দুদক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধান প্রকৌশলী আবদুর রশিদ মিয়ার অবৈধ অর্থে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে রয়েছে বগুড়ার শেরপুর পৌরসভায় জমি ও হিমছায়াপুরে বাগানবাড়ি, শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকার তলা মৌজায় প্রায় ৫ একর জমি, শেরপুর সেরময়া মৌজায় প্রায় ১২ বিঘা জমি, রাজশাহীতে দুটি বহুতল ভবন (৫ ও ৭ তলা), একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে ২৫ শতাংশ জমির ওপর ফুড গার্ডেন, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মহাসড়কে আরেকটি ফুড গার্ডেন। এসব সম্পদের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা। এছাড়া তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট, ব্যাংকে কোটি টাকার এফডিআর এবং অজ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। দুদকের তলবি নোটিশে উদাসীনতা:  দুদকের সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাস স্বাক্ষরিত তলবি নোটিশ অনুযায়ী, আবদুর রশিদ মিয়াকে পরপর তিনবার (১০ এপ্রিল, ১৬ এপ্রিল ও ২ মে) হাজিরা ও নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়।

কিন্তু তিনি হাজির হননি, এমনকি কোনো নথিও জমা দেননি। পরবর্তীতে ১৫ মে শেরেবাংলা নগর থানার মাধ্যমে চতুর্থবারের মতো তলবি নোটিশ পাঠানো হয়, যা এলজিইডির আগারগাঁও ভবন বরাবর প্রেরিত হয়। তাতেও কোনো সাড়া না দিয়ে দুদকের নির্দেশনা অগ্রাহ্য করেন তিনি। দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আমরা বারবার নোটিশ পাঠিয়েছি, কিন্তু তিনি হাজির হননি বা নথি দেননি। অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের প্রমাণ মিলেছে। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে দুদকের তদন্তে বাধা দিচ্ছেন।” ঘুষুবাণিজ্যের অভিযোগ : অভিযোগে বলা হয়, প্রধান প্রকৌশলী আবদুর রশিদ মিয়া এলজিইডিতে দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়মের মাধ্যমে নিজ, স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়দের নামে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ

আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে প্রকল্প পরিচালনা, ক্রয়, টেন্ডার ও অনুমোদনের নামে কোটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। দুদক আইন, ২০০৪-এর ১৯(৩) ধারায় চাহিদাকৃত রেকর্ডপত্র ও তথ্য সরবরাহ না করলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এতে তাকে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মসনদ ও সম্পদ বিবরণীসহ হাজির হতে বলা হয়। কিন্তু তিনি হাজির না হওয়ায় কমিশন এখন আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এই বিষয়ে কথা বলতে প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুর রশিদ মিয়ার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category