ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার আকনপাড়া গ্রামের মো. আব্দুর রহমান শেখ (৫২)। একসময় সাধারণ ঘড়ির মেকানিক জীবন যুদ্ধেই কেটেছে তার দিন। কিন্তু দুই প্রজন্মের আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে তিনি পরিণত হন শত কোটি টাকার মালিক এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
দারিদ্র্য থেকে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা: শৈশবে চরম দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন আব্দুর রহমান। হালুয়াঘাট সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন গোপাল পোর্দারের দোকানে ঘড়ির কাজ শেখেন। পরে নিজেও একটি ছোট দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
১৯৯০ সালের দিকে মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিনকে “পিতা” বলে সম্বোধন করে ঘনিষ্ঠ হন। ১৯৯১ সালে মানকিন এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই দ্রুত বদলে যায় আব্দুর রহমানের ভাগ্য।
তিন দশক ধরে ক্ষমতার প্রভাব: ১৯৯১ থেকে ২০২৪—প্রায় তিন দশক তিনি প্রমোদ মানকিনের এপিএস, পরে তার ছেলে জুয়েল আরেং এমপি’র পিএস হিসেবে কাজ করেন। এই দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের ছায়ায় হালুয়াঘাট–ধোবাউড়া এলাকায় গড়ে তোলেন নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ নিয়োগ বাণিজ্য, বালুমহাল দখল, টেন্ডারবাজি, কমিশন বাণিজ্য, এলজিইডি–এলজিএসপি সিন্ডিকেট, টি.আর–কাবিখা সহ নানা উন্নয়ন প্রকল্পে তার ছিল পুরো নিয়ন্ত্রণ। এই সুযোগেই রাতারাতি বেড়ে ওঠে তার অগাধ সম্পদ।
নামে–বেনামে বিপুল সম্পদের অভিযোগ: অভিযোগ অনুসারে আব্দুর রহমানের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদের তালিকা চমকে দেওয়ার মতো হালুয়াঘাট উত্তর বাজারে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের ১৫ শতাংশ জায়গা (মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা)
আকনপাড়া মৌজায় ৪–৫ একর জমি ও স্থাপনা, গোবড়াকুড়া স্থলবন্দরে ৮–১০ কোটি টাকা মূল্যের দেড় একর জমি, পুরাতন বাস টার্মিনাল ও থানার দক্ষিণ পাশে ১০–১২ কোটি টাকার স্থাপনা
ঢাকার আব্দুল্লাহপুরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ভবন ও জায়গা, টাঙ্গাইলের নাগরপুরে স্ত্রী–সন্তানদের নামে বহু স্থাপনা ও বড় মার্কেট, স্থানীয়দের দাবি—গত ১৭ বছরে তার সম্পদের পরিমাণ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
সরকার পরিবর্তনের পর আত্মগোপন: ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার দেশত্যাগের পরপরই আব্দুর রহমান গা–ঢাকা দেন। সেদিন বিকেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়; লুট করে কোটি টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় তিনি পলাতক।