ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন ২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। এ দাবিতে আগামীকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আব্দুল গণি রোড ও কলেজ রোড সংলগ্ন শিক্ষা ভবন অভিমুখে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করবেন তারা।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা আর কোনো কালক্ষেপণ চাই না। বিশ্ববিদ্যালয় যে মডেলেই হোক, অংশীজনের মতামতের আলোকে দ্রুত খসড়া হালনাগাদ করে অধ্যাদেশ দিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন ২০২৫’-এর খসড়া নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছে। তবুও সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিলম্ব করা হচ্ছে।
সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের নেতা নাঈম হাওলাদার সমকালকে বলেন, অধ্যাদেশ জারির চূড়ান্ত দিনক্ষণ জানাতে হবে। শিক্ষার্থীরা অধ্যাদেশ নিয়েই তবে পড়ার টেবিলে ফিরবেন। সে কারণেই আমরা আগামী ১৩ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছি।
চলতি বছরের ২৬ মার্চ রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে পৃথক করে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের ঘোষণা দেয় সরকার। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রস্তাবিত নাম নির্ধারণ করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। সাত কলেজ হলো– ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।
তবে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। শিক্ষকরা চাচ্ছেন কলেজগুলো স্বতন্ত্র রেখে বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো গঠন করতে। শিক্ষার্থীরা দাবি জানাচ্ছেন পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আবার শিক্ষকদের মতের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। ফলে তিন পক্ষের এই অবস্থান সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশকে ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সব পক্ষের মতামত নিয়ে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত অধ্যাদেশ শিগগির জারি করা হবে। আজ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশের খসড়া ২৪ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়, যা ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। এ সময়ের মধ্যে ছয় হাজারেরও বেশি মতামত পাওয়া গেছে। বর্তমানে মতামতগুলো সংকলন ও বিশ্লেষণের কাজ চলছে। এ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শ সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।