• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৯ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ায় দলিল জালিয়াতির ঘটনায় সাব রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ কারাগারে

স্টাফ রিপোর্টার / ২৫২ Time View
Update : শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলায় স্বাক্ষর জালিয়াতি ও ভুয়া দলিলের মাধ্যমে দুই বোনের প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি জবরদখলের ঘটনায় কুষ্টিয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সাব রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে কুষ্টিয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তপন রায় তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সন্ধ্যার দিকে তাকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। সুব্রত কুমার সিংহ (৪৬) বর্তমানে দিনাজপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত। তিনি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার জয়পুর গ্রামের দূর্গাপদ সিংহের ছেলে। কুষ্টিয়ায় কর্মরত অবস্থায় তিনি এ দুর্নীতি অনিয়ম করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এ মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মনোহরদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক কর্মকর্তা মেসবাহুর রহমানের (৫৫)। তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দুর্বচরা গ্রামের মৃত শাহ উজির উদ্দিনের ছেলে। একই উপজেলার লাহিনী গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে শামসুল ইসলাম (৩০), দুর্বাচারা গ্রামের শাহ খলিলুর রহমানের ছেলে শাহ ইউসুফ হোসাইন (৩২), লাহিনী গ্রামের আক্তার খাঁর ছেলে সাদ্দাম খাঁ (৩১), লাহিনী গ্রামের মৃত সামাদ খার ছেলে আক্তার হোসেন (৬১), একই গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে তানভির হোসেন (২৩), নড়াইল জেলার মাধবপাশা গ্রামের হামিদুল হকের ছেলে এসএম জিয়াউর রহমান (৪১), তার স্ত্রী সুমনা (৩০), কুষ্টিয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সাব রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ, একই অফিসের অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম মুকুল, পিয়ন নুরুল ইসলাম খোকন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীরা হলেন- কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের বেড়বাড়াদী গ্রামের মৃত নিয়ামত আলী শেখের মেয়ে জামিলা নাহার শেখ ও জুবাইদা নাহার শেখ। জুবাইদা নাহার শেখ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এবং জামিলা নাহার শেখ চাকরিজীবী। মামলার বাদী জুবাইদা নাহার শেখ।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১০ মার্চ ও একই বছরের ১৯ জুন বিকালে কুষ্টিয়া সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ভূমি অফিস ও তহসিল অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে নামজারি তৈরি করে দুই বোনের প্রায় দশ কোটি টাকার মূল্যের ২৮ বিঘা পৈতৃক জমি ও পেট্রলপাম্পের জমি আত্মসাতের চেষ্টা করে। তাদের জালিয়াতির বিষয়টি জানাতে পেরে ভুক্তভোগীরা আদালতের দ্বারস্থ হন।

আদালতের নির্দেশে মামলাটি কুষ্টিয়া পিবিআই অনুসন্ধান শুরু করে। মামলাটি অনুসন্ধানে নেমে কেঁচো খুড়তে বেড়িয়ে আসে সাপ। ভুক্তভোগী দুই বোনের স্বাক্ষর ও টিপসই জাল জালিয়াতি করা হয়। দুই বোনের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা দীর্ঘ তেইশ বছরের বিশ্বস্ত কর্মচারী এসএম জিয়াউর রহমান ও তার প্রথম স্ত্রী সুমনাকে বিক্রেতা সাজিয়ে গুলশানের একটি বাড়ীতে জালিয়াত চক্রের উপস্থিতিতে (একজনকে দিয়েই) দুইজন দাত্রীর স্বাক্ষর ও টিপসহি প্রদান করে। জালিয়াত চক্র জমির নামজারী সম্পন্ন করে। তারপর জালিয়াত চক্রের সদস্য ও দলিল গ্রহীতাগণ কয়েকগুন উচ্চ মূল্যে অন্যান্যদের নিকট পেট্রোল পাম্পসহ জমি বিক্রি করে বিপুল অংকের টাকা আত্মসাৎ করে। তদন্তে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পান তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই কর্মকর্তা রবিউল আলম। তদন্ত শেষে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তিনি। স্বাক্ষর জালিয়াতি ও ভুয়া দলিলের মাধ্যমে দুই বোনের প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা করেন আসামিরা।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম, আদালত পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, সাব রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহকে গত ২৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট থেকে চিফ জুডিশিয়াল আদালতে ৬ সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার আদেশ প্রদান করা হয়। বুধবার তিনি আদালত হাজির হলে বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category