• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪২ অপরাহ্ন

গাজীপুর জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত শুরু

স্টাফ রিপোর্টার / ২৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গাজীপুর জেলা পরিষদের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নেমেছে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গাজীপুর জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তদন্ত পরিচালনা করেন ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আজমুল হক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোছা. সেলিনা বানু।

তদন্তকালে জেলা পরিষদের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই সঙ্গে জেলা পরিষদের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও বক্তব্য নেওয়া হয়।

তদন্তের আওতায় ছিল নিয়মবহির্ভূতভাবে জেলা পরিষদের এফডিআর ভেঙে ফেলা এবং শ্রীপুরের বরমী-বরামা খেয়াঘাটের ইজারায় অনিয়মের অভিযোগ। এছাড়া জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজ বাইরের লোকজন দিয়ে করানো এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এ সময় তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করেন।

তদন্ত কার্যক্রম শেষে গাজীপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আজমুল হক।

তিনি বলেন, জেলা পরিষদের এফডিআর ভেঙে ফেলা এবং বরমী-বরামা খেয়াঘাটের ইজারায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

এ সময় ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক আবুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও তিনি নির্দিষ্ট তথ্য পাননি।

জবাবে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আজমুল হক বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাংবাদিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আবেদন করার পরও জেলা পরিষদ থেকে তথ্য না পেলে আপিল করার বিধান রয়েছে।

এর আগে গত ৬, মে একটি জাতীয় দৈনিক ও মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ‘নজরুলের তেলেসমাতি’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে জেলা পরিষদের এফডিআরসহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ১১ মে একই পত্রিকায় ‘৭৫ লাখের নিচে ইজ্জত থাকে না তার’ শিরোনামে আরও একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে জেলা পরিষদের জমি ইজারা, বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

এরপর গত ১৯ আগস্ট সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বদলি হয়। এবার তার দায়িত্ব পালনকালের সময়ে জেলা পরিষদে সংঘটিত কথিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category