• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন

সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে তিন মামলার অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার / ৫৪ Time View
Update : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

নিজ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্টের নামে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের অভিযোগ, চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখা থেকে সিমেন্টের কাঁচামাল কেনার নামে ভুয়া বিল-ভাউচার দাখিল করে কোনো ধরনের ক্রয়-বিক্রয় ছাড়াই ২৭টি ডিলের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয়। পরে এসব অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর ও রূপান্তরের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ইউসিবি পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, আরামিট সিমেন্টের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম, ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল আজিজসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মোট ২৯ জনের নাম রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় মামলায় ১৬ জন করে এবং তৃতীয় মামলায় ২০ জনকে আসামি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে আরামিট গ্রুপের মালিক ও তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ঋণ অনুমোদন করানো, আরামিট গ্রুপের কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে ভুয়া সরবরাহকারী দেখানো, অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তর করে নগদে উত্তোলন এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগে দায়ী করা হয়েছে। তাকে পাচার করা অর্থ দিয়ে ইউএই, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে সম্পদ কেনার পাশাপাশি এ ঘটনার ‘আল্টিমেট বেনিফিশিয়ারি ও মূলহোতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মামলার নথিতে।

রুকমীলা জামানের বিরুদ্ধে ইউসিবির চেয়ারম্যান ও আরামিট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সংশ্লিষ্ট লেনদেনে ভূমিকা রাখা, প্রভাব খাটিয়ে ঋণ অনুমোদন এবং অর্থ স্থানান্তর ও পাচারে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। আরামিট সিমেন্টের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার মোহাম্মদ শাহ আলম এবং ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধেও ভুয়া আবেদন ও ডিল অনুমোদন, অর্থ স্থানান্তর-রূপান্তর ও নগদ উত্তোলনে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

প্রথম মামলা

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনাটি ২০১৮ সালের ২০ মার্চের। ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার আরামিট সিমেন্টের পক্ষে আবেদনে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির আগ্রাবাদ শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে একটি ডিলের মাধ্যমে ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

দ্বিতীয় মামলা: ১৭ ডিলে ৪১ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার

দ্বিতীয় ঘটনাটি ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের। নথিতে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার গ্রাহক আরামিট সিমেন্ট পিএলসির আবেদনে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির কামাল বাজার শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে ১৭টি ডিলের মাধ্যমে ৪১ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায়ও ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় মামলা

তৃতীয় ঘটনাটি ২০২০ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, আরামিট সিমেন্টের আবেদনে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির সদরঘাট শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে ৯টি ডিল করা হয়। এতে গ্রাহকের ইকুইটি ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বাদ দিয়ে ৪২ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনায় ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নথিতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট ডিলের বিপরীতে কোনও মালামাল সরবরাহ না হওয়া সত্ত্বেও আবেদন, অফার লেটার, পে-অর্ডার ইস্যু-সংক্রান্ত নির্দেশনাসহ বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর এবং অর্থ আত্মসাতে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার পাশাপাশি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের কামাল বাজার শাখা এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার একাধিক কর্মকর্তার নাম আসামির তালিকায় রয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের পর নগদে উত্তোলন, আগের দায় পরিশোধ এবং বিদেশে পাচার করা হয়েছে। কমিশন এসব অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা রুজুর অনুমোদন দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category