• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৬ অপরাহ্ন

জামায়াত হত্যা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির রাজনীতি চায় না: আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের

স্টাফ রিপোর্টার / ১৮৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

জামায়াতে ইসলামী হত্যা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির রাজনীতি চায় না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। বুধবার সন্ধ্যার আগে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নে তারাশাইল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘অতীতে কোনো সরকারের সময় দুর্নীতি কমেনি। এখন আমরা যাদের সঙ্গে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, তারা যখন ক্ষমতায় ছিল, সে সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আমরা যদি দেশকে আবার দুর্নীতি, নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিতে চাই, তাহলে তাদের ভোট দিতে হবে। আর যদি একটি নিরাপদ, দুর্নীতিমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ চাই, তাহলে দুর্নীতি–নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ১১-দলীয় জোটকে ভোট দেবেন। জামায়াতে ইসলামী হত্যা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির রাজনীতি চায় না।’

নতুন দেশ গড়তে মানুষের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ‘৫৪ বছরের ব্যর্থতার রাজনীতির ইতিহাসের পর জীবনের বিনিময়ে মানুষের মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, মানুষের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সেটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য। মানুষের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে পরিবর্তনের জন্য। তারই একটি প্রতিফলন হচ্ছে, আজকে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ পরিবর্তনের পক্ষে মানুষের গণজোয়ার এবং ঢেউ।’

আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী দেশে নৈরাজ্য চায় না। আমরা হত্যা ও লুটের রাজনীতি চাই না। আমরা জনগণের হানাহানির রাজনীতি চাই না। আমরা অধিকারহীনতার রাজনীতি চাই না। ফ্যাসিবাদ এবং আধিপত্যের রাজনীতির কোনোটাই আমরা চাই না। আমরা দেশের শান্তি চাই, আমরা চাই শান্তির রাজনীতি। আমরা ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি বন্ধ করব। এটা আমাদের কথার কথা না, এটা আমাদের পরীক্ষিত সত্য। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর ৪৪ জন মন্ত্রী ছিলেন, এর মধ্যে জামায়াতের দুজন ছিলেন। সেই সময়ে এই দুজনের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি খুঁজে পাওয়া পায়নি।’চৌদ্দগ্রামের এই প্রার্থী বলেন, ‘চব্বিশের ২২ জুলাই আমাকে ঢাকা থেকে যৌথ বাহিনী গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছিল। ৫ আগস্ট বিপ্লবের পর জেল সুপার ফোন দিলেন, “স্যার, দেশ এখন স্বাধীন হয়ে গেছে। আপনি জেল থেকে কথা বলতে পারবেন।” আমি জেল থেকে প্রথম ফোন করেছি চৌদ্দগ্রামে। আমার উপজেলায় যেন কারও ওপর কোনো প্রতিশোধ নেওয়া না হয়। আমার নেতা-কর্মীরা আমার কথা রেখেছেন। অন্যায়ভাবে কারও ওপর আঘাত করা হয়নি। চৌদ্দগ্রামের মানুষ বিশ্বাস করে, আমাদের কাছেই তারা নিরাপদ।’ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা হাসান মজুমদারের সভাপতিত্বে ও জামায়াত নেতা নাজমুল হক মোল্লার সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য দেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মু. মাহফুজুর রহমান, শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মজিবুর রহমান ভুঁইয়া, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির সাহাব উদ্দিন, সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন আহমেদ ভুঁইয়া প্রমুখ। এ সময় উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের সাবেক ১৩ জন ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নেতারা বক্তব্য দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category