সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে আনিত দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ পুনরায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তাদের দাবি, বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফখরুল আহমদ মতছিনের দায়িত্ব পালনের সময় নানাভাবে অর্থ আত্মসাত করেছেন। যার সত্যতা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড পেয়েছে।
কিন্তু দুদক দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে প্রতিবেদন দিয়েছে। বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।ফখরুল আহমদ মতছিন ২০১৩ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তাকে সভাপতি করার সময়ও এলাকাবাসী ক্ষোভ জানিয়েছিলেন। তিনি তখন চেক প্রতারণা মামলার দণ্ডিত ও পলাতক আসামি ছিলেন।
দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়া ছাড়াও নানা অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৩ সালের ৫ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্যে মাইজগাঁও এলাকার বাসিন্দা এম এন ইসলাম খান বলেন, “ফখরুল আহমদ মতছিন অবৈধভাবে সভাপতির পদে থেকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নয় লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা, সিলেট জেলা পরিষদের দুই লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের গাছ কেটে নিয়েছেন তিনি। বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের ফান্ড থেকে টাকাসহ বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন ফখরুল আহমদ মতছিন। যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একাধিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
“অথচ গত ২৫ অগাস্ট দুদক সিলেট কার্য়ালয় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে প্রতিবেদন দিয়েছে দুদক প্রধান কার্য়ালয়ে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “ফখরুল আহমদ মতছিন রাজনৈতিক প্রভাব, প্রতিপত্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেদন নিজের পক্ষে নিয়েছেন। এর ফলে সমাজে ভুল বার্তা যাচ্ছে। দুদকের এ ‘দায়মুক্তি’র প্রতিবেদন স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনসাধাররণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।”
সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে ফখরুল আহমদ মতছিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো পুনরায় তদন্ত করার জন্য দুদক চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কান্দিগ্রামের আব্দুল গণি, মো. ফারুক মিয়া, মো. আব্দুস সালাম, রোহান আহমেদ, মো. সালা উদ্দিন, মাইজগাঁওয়ের মো. ছইদ আলী, জগতপুরের মো. মবশ্বির আলী, দলীপাটলীর মো. সাদ্দাম মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মতছিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেন, “এগুলো আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। আমাকে স্কুল থেকে সরাতে এসব করা হচ্ছে। আমি স্কুলের অনেক উন্নয়ন করেছি। আর আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ দুদক তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনে তাদের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।”
এ বিষয়ে দুদক সিলেট কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রাফি মো. নাজমুস সাদাত বলেন, “প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।”