• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
জমি, পাঁচতলা বাড়ি, স্ত্রীর নামে নগদ টাকাসহ যত অবৈধ সম্পদ ওয়াসার গাড়িচালক তাজুলের দুর্নীতির মামলায় সাবেক কর কর্মকর্তা শ্যামলের ৫ বছরের কারাদণ্ড স্বাস্থ্য খাতকে দুর্নীতির মাধ্যমে ভেঙে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেনজীরের দুর্নীতির মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্য মোদি–আদানির সম্পর্ক আর দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা দুর্নীতির মামলা: সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি এনবিআরের চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব ঘুস-দুর্নীতির অভিযোগে মোংলা কাস্টমস কর্মকর্তার অপসারণ দাবি স্ত্রী-শ্যালকসহ সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা প্রশ্নফাঁসের শাস্তি, সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় বদলি!

ঘুষ ছাড়া ফাইলে স্বাক্ষর করেন না শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী নাসরিন

স্টাফ রিপোর্টার / ৫৩৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর না করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী নাসরিন সুলতানার বিরুদ্ধে। নিয়ম অনুযায়ী সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও ঘুষ ছাড়া বিলের ফাইলে স্বাক্ষর করেন না তিনি।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিন ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অফিস ব্যয়, বিদ্যালয় সংক্রান্ত অন্যান্য বিল অযৌক্তিকভাবে আটকে রাখা হচ্ছে। বিল দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চাইলে মৌখিকভাবে অর্থ দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যালয় সংস্কার বরাদ্দের বিল তুলতে গেলে তাকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে হয়। শিক্ষকদের অবসরভাতা উত্তোলন করতেও ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না তিনি। বিল জমা দেওয়ার পর বারবার ঘোরানো হয়। সরাসরি কিছু না বললেও বুঝিয়ে দেওয়া হয়, টাকা না দিলে স্বাক্ষর পাওয়া যাবে না।

আরও জানা যায়, সিঙ্গেরগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবুল হোসেন অবসরে যাওয়ার পর অসুস্থতা জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। পরে তার অবসর ভাতা উত্তোলন করতে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেন নাসরিন সুলতানা।

বিজ্ঞাপন

বাবুল হোসেনের স্ত্রী সোহনেয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করে অবসর নিয়েছেন। পরে তিনি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে মারা যান। মারা যাওয়ার পরে আমরা সমস্যায় পড়ি, তখন তার অবসর ভাতা তুলতে গেলে শিক্ষা অফিসের নাসরিন আমার ফাইল পার করায় না। দিনের পর দিন ফাইল আটকে রেখে আমাদের ঘোরায়। পরে তিনি প্রস্তাব দেন তাকে এক লাখ টাকা দিলে সে ফাইল পার করিয়ে দেবেন। আমি মানুষের কাছে সুদের ওপর টাকা নিয়ে তাকে সেই ঘুষ দেই। তখন সে স্বাক্ষর করে ফাইলটা পার করেছে।

মেলাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমি ২০২২ সালে চাকরি জীবন শেষ করে অবসরে যাই। ভেবেছিলাম চাকরি থেকে অবসর যাওয়ার পর ভালোভাবে অবসর ভাতা উত্তোলন করতে পারব। তবে সব কাগজপত্র ঠিক করে অফিসে নিয়ে গেলে হিসাব সহকারী সেটিতে স্বাক্ষর না করে দীর্ঘদিন ঘোরায়। পরে সে এক মাধ্যমে আমার কাছে ঘুষ দাবি করে। সেটি দেওয়ার পর আমার অবসর ভাতা তুলতে পেরেছি।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষক বলেন, আমরা শিক্ষা অফিসে বিল সংক্রান্ত কাজ করতে গেলে ঘুষ ছাড়া কোনোভাবে কাজ হয় না। সেখানে হিসাব সহকারীকে খুশি করাতে হয়। আমাদের যে ছোট বরাদ্দ আসে সেগুলোর কাজ করব নাকি সেখান থেকে টাকা বাঁচিয়ে ঘুষ দেব। এ বিষয়ে কথা বললে বরাদ্দ পাব না কিংবা সমস্যা হবে এজন্য এসব বিষয় কথা বলি না।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী নাসরিন সুলতানা বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সত্য না। আমি এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে কোন কথা বলতে চাই না। আপনি আমার সঙ্গে দেখা করেন নয়তো আমার ভাই আপনার সঙ্গে দেখা করবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদা বেগম বলেন, বিষয়টি খুবই খারাপ লাগার। শিক্ষকদের কাজের ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেন করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি এটা করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category