• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
জমি, পাঁচতলা বাড়ি, স্ত্রীর নামে নগদ টাকাসহ যত অবৈধ সম্পদ ওয়াসার গাড়িচালক তাজুলের দুর্নীতির মামলায় সাবেক কর কর্মকর্তা শ্যামলের ৫ বছরের কারাদণ্ড স্বাস্থ্য খাতকে দুর্নীতির মাধ্যমে ভেঙে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেনজীরের দুর্নীতির মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্য মোদি–আদানির সম্পর্ক আর দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা দুর্নীতির মামলা: সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি এনবিআরের চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব ঘুস-দুর্নীতির অভিযোগে মোংলা কাস্টমস কর্মকর্তার অপসারণ দাবি স্ত্রী-শ্যালকসহ সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা প্রশ্নফাঁসের শাস্তি, সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় বদলি!

সাড়ে ৫ কোটি টাকার মালামাল ১৯ লাখে বিক্রি, নির্বাহী প্রকৌশলী ‘পলাতক’

স্টাফ রিপোর্টার / ১০৪৭ Time View
Update : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬

নোয়াখালীতে প্রায় ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী মাত্র ১৯ লাখ টাকায় গোপনীয়ভাবে নিলামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগের জেরে একদিন ঠিকাদারদের হাতে অবরুদ্ধ থাকার পর পরদিন অফিসে অনুপস্থিত থাকায় তাকে পলাতক বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় কার্যালয়ের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ভয়ে অফিসের বাইরে অবস্থান নেন। এর আগের দিন রবিবার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নোয়াখালী জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কার্যালয়ে সাধারণ ঠিকাদাররা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, ডানিডা অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের পাইপ এবং নির্মাণসামগ্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল। এসব মালামাল অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে কথিত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামে তোলা হয়। এতে অধিকাংশ ঠিকাদার বিষয়টি জানতে না পারায় দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি।

এ সুযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মেসার্স শাহনাজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার মালামাল মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্র জানায়, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ৪৮ হাজার এবং তিন ইঞ্চি ব্যাসের ২৮ হাজার পাইপসহ প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার ফুট বিভিন্ন মাপের পাইপ নিলামে বিক্রি করা হয়। নিলামের পর রাতারাতি এসব সামগ্রী গুদাম থেকে সরিয়ে চরবাটা ও চর আমান উল্লা এলাকায় সংরক্ষণ করা হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা বিষয়টি জানতে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে গেলে তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ঠিকাদাররা সংঘবদ্ধ হয়ে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং তার অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন। পরে নিলাম বাতিলের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের একটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ৯০ কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে। এতে নোয়াখালীর সুবিধাবঞ্চিত মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ ছাড়া, যেসব ঠিকাদার মোটা অঙ্কের কমিশন দিতে পারেননি, তাদের কাজের কার্যাদেশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, কমিশন দিয়ে কাজ পাওয়া ঠিকাদাররা নিম্নমানের ও দায়সারা কাজ করছেন, যার ফলে প্রকল্পের গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস এম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. দুলাল বলেন, ‘আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে ঠিকাদারি করি। এভাবে প্রকাশ্যে লুটপাট আগে কখনও দেখিনি। জুলাই আন্দোলনের পর ভেবেছিলাম অনিয়ম বন্ধ হবে, কিন্তু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কোনও নিলাম দিইনি। নিলাম প্রক্রিয়া ঢাকা থেকে পরিচালিত হয়েছে। ঠিকাদারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিলাম কার্যাদেশ বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আমি পলাতক নই, অফিসের কাজে সাইটে আছি।’

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category