• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
জমি, পাঁচতলা বাড়ি, স্ত্রীর নামে নগদ টাকাসহ যত অবৈধ সম্পদ ওয়াসার গাড়িচালক তাজুলের দুর্নীতির মামলায় সাবেক কর কর্মকর্তা শ্যামলের ৫ বছরের কারাদণ্ড স্বাস্থ্য খাতকে দুর্নীতির মাধ্যমে ভেঙে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেনজীরের দুর্নীতির মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্য মোদি–আদানির সম্পর্ক আর দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা দুর্নীতির মামলা: সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি এনবিআরের চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব ঘুস-দুর্নীতির অভিযোগে মোংলা কাস্টমস কর্মকর্তার অপসারণ দাবি স্ত্রী-শ্যালকসহ সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা প্রশ্নফাঁসের শাস্তি, সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় বদলি!

রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামানের ১০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

ফারহান / ৫৪৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঘুষ, দুর্নীতি এবং অনিয়মের কারণে বারবার আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছে। রাজউকের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে অনিয়ম-দুর্নীতি এখন গেড়ে বসেছে। সংস্থাটির সেবার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি উভয় স্তরেই দুর্নীতি ও ভয়াবহ অনিয়ম রয়েছে। আর এসব দুর্নীতির ক্ষেত্রে রাজউক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আঁতাত স্পষ্ট। ফলে, রাজউক কর্তৃক সার্বিক জবাবদিহি কাঠামো কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন ব্যহত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় উঠে এসেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)জোন—৬-এর ইমারত পরিদর্শক মোঃ মনিরুজ্জামানের নাম।

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় মনিরুজ্জামান জহির রায়হান হলের সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ছাত্র জীবনে মনিরুজ্জামান ছাত্রলীগের কর্মী হওয়ায় বাউফলের তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক চীফ হুইপ ও সংসদ সদস্য আ.স.ম ফিরোজ এবং এইচটি ইমামের সুপারিশে রাজউকে ইমারত পরিদর্শক হিসেবে চাকরি বাগিয়ে নিয়ে ২ জুলাই ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে রাজউক প্রধান কার্যালয়ে যোগদান করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মনিরুজ্জামান নিজেকে বিএনপির একজন নেতা বলে দাবি করেন।

দুদকের এক অভিযোগে জানা যায়, মনিরুজ্জামান মাত্র কয়েক বছরে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকায় কিনেছেন একাধিক ফ্লাট, গাজীপুরে কিনেছেন একাধিক প্লট, বরিশাল সদরে ও নিজ গ্রাম বাউফলের ছিটকায় জমি কিনে ভবন নির্মাণ করেছেন। রয়েছে মটরসাইকেল, ব্যবহার করেন ব্যক্তিগত গাড়ি। ব্যাংকে কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে বলেও জানা গেছে। এসব সম্পদের কোনো বৈধ উৎস নেই বলে অভিযোগ তোলেন।

মনিরুজ্জামান এবং কানিজ জাহানকে ২ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তলব করে তাদের এবং আপনার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের স্বনামে/বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও উহা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী অত্র আদেশ প্রাপ্তির ২১(একুশ) কার্য দিবসের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর কোন অদৃশ্য কারনে দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি।

এদিকে মনিরুজ্জামানের গ্রামের বাড়ির বাসভবনটি ভঙ্গুর অবস্থায় থাকলেও বাংলামটরে সারিনা আশরাফ নিবাশের ৯/সি ফ্লাটের মালিক মনিরুজ্জামান, বর্তমানে তিনি এই ফ্লাটেই বসবাস করছেন। মহাখালীর ফ্যালকন গার্ডেনে তার ফ্লাট রয়েছে। ফ্যালকন গার্ডেনের সিকিউরিটি গার্ড আব্দুস সবুর এনবিবিকে জানান “এই ফ্লাটটি মনিরুজ্জামান স্যারের”। তিনি আরো জানান ফ্লাটটি কিছুদিন পূর্বে এক কোটি দশ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চাইলেও এখন আর বিক্রি করবেন না। উত্তরার উলুদাহা, বাউনিয়া মৌজায় পলিয়েন্থাস ভবনে একটি ফ্লাট ও দক্ষিণ পীরেরবাগের আমতলা টাওয়ারে ১,৬৩০ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাটের মালিক ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামান। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বাউপাড়া মৌজায় বন বিভাগের জমি ভূমি দস্যুরা দখল করে বিক্রি করছে, সেই জমি চারজনে মিলে শেয়ারে ক্রয় করেছেন এই মনিরুজ্জামান। সরেজমিনে গিয়ে সেই জমিতে মনিরুজ্জামানের নামসহ মালিকানা সাইনবোর্ড দেখা গেছে।

সাতাইশ, টঙ্গী, গাজীপুরে জমি ক্রয় করে তৈরি করেছেন টিনশেড বাড়ি। এই বাড়িতে মোট ৯টি রুম রয়েছে যার ৩ টিতে তার বোন-জামাই বসবাস করে, বাকিগুলো ভাড়া দেয়া হয়। বরিশালের চাঁদমারি, বান্দ রোডে ১০ শতাংশ জমির উপরে টিনসেড তিন ইউনিটের ঘর রয়েছে তার। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে বর্তমানে এখানে জমির শতাংশ ৩৫ লক্ষ টাকা করে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে, এই হিসেবে তার মোট জমির মূল্য রয়েছে ৩,৫০,০০,০০০/=। এখান থেকে মাসে ১৫,০০০/- টাকা ঘর ভাড়া আদায় করেন মোঃ মনিরুজ্জামান। এছাড়াও বরিশালের কাশিমপুর এলাকায় পাঁচতলা ভবন রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বাউফলের ছিটকা রণভৈরবে মনিরুজ্জামানের পৈতৃক ভিটার কাছের বাজারে রয়েছে তার সুবৃহৎ ৩ তলা বাড়ি, যার নিচে গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়াও নিজ পৈত্রিক ভিটার কাছেই ৯৬০ শতাংশ জমি কিনেছেন তিনি।

বাউফলের ছিটকা রণভৈরবে সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে স্থানীয় কয়েকজন বলেন মনিরুজ্জানের একাধিক মাছের ঘের রয়েছে ও বিভিন্ন জায়গায় জমিও কিনেছেন তিনি। কিন্তু যখনই তারা বুঝতে পারে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছে তখনই চুপ হয়ে যায় কোন অদৃশ্য ভয়ে।

ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামান খুব সাদাসিদে ভাবে অফিসে আসলেও ব্যক্তি জীবনে চলাফেরার জন্য তিনি একটি ইয়ামাহা এফজেডএস ভার্সন২ মটরসাইকেল (এল-৬*-৬২) ও একটি বিলাসবহুল টয়োটা প্রিমিও ২০১৭ মডেলের প্রাইভেট কার (গ-৩*-৩০) ব্যবহার করেন। প্রতি শনিবার মনিরুজ্জামান ও তার স্ত্রী কানিজ জাহান পুত্র মোনেমকে নিয়ে কোচিং এর উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ব্রিটিশ কাউন্সিলে যান।

মনিরুজ্জামানের এমকে ডিজাইন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্স লি: নামে রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যদিও এই প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-৫ থেকে ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামানের স্ত্রী গৃহিনী কানিজ জাহানের নামে নিবন্ধিত। প্রতিষ্ঠানটির ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট রয়েছে। একই নামে গাজীপুরের টঙ্গির সাতাইস স্কুল এন্ড কলেজ মার্কেটে রয়েছে আরেকটি অফিস।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা এই সকল বিষয় নিয়ে ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category