• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
দুর্নীতির মামলা: সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি এনবিআরের চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব ঘুস-দুর্নীতির অভিযোগে মোংলা কাস্টমস কর্মকর্তার অপসারণ দাবি স্ত্রী-শ্যালকসহ সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা প্রশ্নফাঁসের শাস্তি, সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় বদলি! দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দল ছাড়লেন গণঅধিকার পরিষদ নেতা দুর্নীতির অভিযোগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কাজ না করেই ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিল প্রদান খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে দুর্নীতি: দুই ঠিকাদারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা স্থানীয় সরকার বিভাগের ১৭ বছরের দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে প্রতিবেদন দুদকে ঘুস-দুর্নীতির অভিযোগে মোংলা কাস্টমস কর্মকর্তার অপসারণ দাবি

বাস মেরামতের টাকায় ‘দুর্নীতি’ অভিযোগ তুলতেই মারধরের চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার / ১০৫ Time View
Update : সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) একটি বাস মেরামতের সময় অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। শুধু অর্থ লোপাটই নয়, দুর্নীতির প্রশ্ন তোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক কর্মকর্তাকে মারধরেরও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভূমি) মো. মোজাহিদ খান এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী এইচ এম তাইফ-উর আকবর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বাস মেরামতের ব্যয়ের হিসাব যাচাই করতে গিয়ে কয়েকটি যন্ত্রাংশের দাম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এরপর তিনি নিজ উদ্যোগে একই দোকান থেকে নতুন করে পণ্যের মূল্য (কোটেশন) সংগ্রহ করে দেখতে পান, দাখিল করা বিলের সঙ্গে বড় অমিল রয়েছে।

এই অনিয়মের প্রমাণসহ তিনি ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর লিখিত অভিযোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে। অভিযোগপত্রে তিনি প্রায় ৪০ হাজার টাকার দুর্নীতির কথা উল্লেখ করা হয় বলে প্রতিবেদকের কাছে নিশ্চিত করেছেন।

তবে অভিযোগ দেওয়ার প্রায় ছয় মাস পর, ২০২৫ সালের ৫ মে অভিযুক্ত মোজাহিদ খান স্টোর কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে তাকে গালাগালি ও শারীরিকভাবে আক্রমণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ মতিউর রহমানের।

মতিউর রহমান বলেন, “দামের গড়মিল দেখে আমি লিখিত অভিযোগ করি। এরপর মোজাহিদ ভাই আমার অফিসে এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারতে আসেন। আমি আত্মরক্ষার্থে তাঁর হাত চেপে ধরি।”

তিনি আরও বলেন, “তদন্ত কমিটি হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। যদি আবারও অন্যায় হয়, তবে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ জানাব।”

এই ঘটনার পর ৮ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার আবু মুহাম্মাদ মুকাম্মেল, সদস্য সচিব অর্থ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. আহসানউল্লাহ এবং সদস্য বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবু রায়হান।

কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এখনও তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি বলে জানা গেছে, ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

অভিযুক্ত মোজাহিদ খান বলেন, “প্রাথমিক বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ লাগায় ভিসি স্যারের নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করানো হয়। হিসাবপত্র অন্য কেউ দেখেছে। মতিউর ভাইয়ের সঙ্গে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, পরে আমি ক্ষমা চেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমি ২৬ বছর ধরে এখানে কাজ করছি, আমার বিরুদ্ধে এর আগে কোনো অভিযোগ আসেনি।”

অন্য অভিযুক্ত এইচ এম তাইফ-উর আকবর বলেন, “বাজার যাচাই করে তুলনামূলকভাবে কম দামে পণ্য কিনেছি। সব কাগজপত্র প্রস্তুত আছে। মারধরের অভিযোগ মিথ্যা। আমি শুধু দুজনকে শান্ত করার চেষ্টা করেছি।”

তদন্ত কমিটির সভাপতি আবু মুহাম্মাদ মুকাম্মেল বলেন, “বাজেট, এস্টিমেট ও ক্রয়ের অডিট চলছে। স্টোর কমিটির সঙ্গেও বসা হবে। ঈদের আগেই প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, তবে তা সম্ভব হয়নি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, “উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category