ঢাকার আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আরও আট আসামিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।
ঢাকার সিনিয়র জুডিসসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত মঙ্গলবার তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে।
ওই আসামিরা হলেন- মো. আলাউদ্দিন (২৯), মো. আপন (২৬), মো. জিহাদ (২৩), ইমরান হোসেন (২৫), নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. গোলাম রাব্বি (২২), বিল্লাল (৩৪) ও দেলোয়ার (৩৩)।
আসামিদের মধ্যে বিল্লাল ও দেলোয়ারকে দুই দিন এবং অন্যদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ হোসেন জানিয়েছেন।
এ আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মো. জাকির আল আহসান।
আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিনের প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বিরোধিতা করা হয়। শুনানি নিয়ে পরে বিচারক রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে সোমবার মামলার প্রধান আসামি জহুরুল ইসলামকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, “গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা দিকে সাভারের বরদেবী পশ্চিমপাড়ায় আবুল কালাম আজাদের অটোরিকশার গ্যারেজের সামনে এক ব্যক্তির অটোরিকশা রাখা নিয়ে বিতণ্ডা হয়। সেটি থামাতে গিয়ে আসামিদের তোপের মুখে পড়েন পুলিশ সদস্য মো. আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ তার ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশনে’ আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালান।
“আসামিরা আলতাফ হোসেনকে রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। তাকে বাঁচাতে এলে তার ছেলে আরিফুল ইসলামকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ছাড়া আসামিরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি এবং ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান।”
পরে আহতদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তার ছেলেকে ‘আশঙ্কাজনক’ অবস্থায় ভর্তি রাখা হয়।
ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলী পারভীন ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।