• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
দুর্নীতির মামলা বেড়েছে, সাজা কম বেবিচকের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয়ের কোটি টাকার সম্পদের হিসাব তলব ঘুষ হিসেবে জমি নিয়ে ফাঁসলেন উপ-সচিবসহ ৫ জন সিভিল এভিয়েশনে শত কোটি টাকার দুর্নীতি দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে দায়মুক্তি উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতির মামলায় এস কে সুরের স্ত্রীর ২ বছরের কারাদণ্ড গাজীপুর জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত শুরু আসিফের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান: এনসিপি বলল দুদকের দলীয়করণ স্পষ্ট বিপিএলে ফিক্সিং: এবার শাস্তি পেলেন দলের মালিক ও ম্যানেজার

সনদ জালিয়াতি থেকে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, তবুও বহাল তবিয়তে মালা খান!

স্টাফ রিপোর্টার / ১৬৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

সনদ জালিয়াতি থেকে শুরু করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি- অভিযোগের পাহাড় নিয়েও বহাল তবিয়তে রয়েছেন বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস-বিআরআইসিএমের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালা খান। দু’দফায় সাময়িক বরখাস্ত হলেও আদালতের আদেশে ফিরেছেন দায়িত্বে। এবার তার বিরুদ্ধে অন্তত ৪০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে ষড়যন্ত্র বলছেন মালা খান।

রাজধানীর ধানমন্ডির ১০/এ সড়কের বিলাসবহুল ভবনের ৪ হাজার ৬৩০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের মালিক কে এম মোস্তফা আনোয়ার। প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের এই সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দুদক। অভিযোগ, পর্তুগাল প্রবাসীর সম্পদের মূল উৎস তার স্ত্রী-বিআরআইসিএম কর্মকর্তা মালা খান। যদিও আয়কর নথিতে ফ্ল্যাটটির মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।


দুদকের তথ্যমতে, রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ফ্ল্যাট ও শংকর জাফরবাদেও দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। বিক্রি করে দেয়া হয়েছে আরও একটি ফ্ল্যাট। এছাড়া সাভার, উত্তরা, গাজীপুরেও সম্পদ রয়েছে। গত বছরে পিএইচডি জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুই দফায় মালা খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও আদালতের আদেশে ফিরেছেন চাকরিতে।মালা খানের দাবি, স্বামীর বিদেশি চাকরি ও পারিবারিক সম্পত্তি থেকেই এসব সম্পদ এসেছে। তবে আয়কর নথিতে বিদেশ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আসার তথ্য মেলেনি।

বিআরআইসিএমের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালা খান বলেন, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কতক্ষণ লড়াই করে থাকা যায়? তারা যদি কাউকে দুর্নীতিবাজ সাজাতে চায় তাহলে তারা তা করবে। অনেক ফাইলপত্র সরিয়ে ফেলেছে। রিপোর্টে তারা লিখেছে আমার স্বামী বেকার। আমার স্বামী পর্তুগালের নাগরিক। সেখানে সরকারি চাকরি করেন। তিনি একজন প্রফেসর।
 
দুদকে জমা পড়া নথিতে উঠে এসেছে, প্রকল্প পরিচালক ও মহাপরিচালক থাকাকালে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সাড়ে ২৬ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের মতে, প্রকল্প শেষ হওয়ার চার বছর পর পেছনের তারিখের চেক ব্যবহার করে প্রায় এক কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ডেবসল নামে যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, অনুসন্ধানে তার কোনো অস্তিত্ব মেলেনি।

এখানেই শেষ নয়; করোনাকালে ভিটিএম কাঁচামাল ক্রয়ে ১৫ কোটি টাকার অনিয়ম, ডেঙ্গু টেস্ট কিটসহ আরও বিভিন্ন গবেষণা কাজে অনিয়ম তথ্য খতিয়ে দেখছে দুদক।
 
দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিআরআইসিএমের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালা খানের বিরুদ্ধে দুদকে একটি অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা তথ্য সংগ্রহ করছেন।

জাতীয় দুর্নীতি বিরোধী সমন্বয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. শাহজাহান সাজু বলেন, রাষ্ট্র যদি তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিতে পারে সেটা রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতা। রাষ্ট্রযন্ত্র তো গাড়ি না যে না চালাইলেও চলবে। রাষ্ট্রযন্ত্র যারা চালায়, যারা প্রশাসনের দায়িত্বে আছেন এটা তাদের ব্যর্থতা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category