• শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
পি কে হালদারের সহযোগী নওশেরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দুর্নীতির মামলা বেড়েছে, সাজা কম বেবিচকের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয়ের কোটি টাকার সম্পদের হিসাব তলব ঘুষ হিসেবে জমি নিয়ে ফাঁসলেন উপ-সচিবসহ ৫ জন সিভিল এভিয়েশনে শত কোটি টাকার দুর্নীতি দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে দায়মুক্তি উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতির মামলায় এস কে সুরের স্ত্রীর ২ বছরের কারাদণ্ড গাজীপুর জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত শুরু আসিফের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান: এনসিপি বলল দুদকের দলীয়করণ স্পষ্ট

দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের সমবায়ে বিপুল কেরোসিন দুর্নীতি! গায়েব ১৬ হাজার লিটার তেল

স্টাফ রিপোর্টার / ২২৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬

ডিএসপি কনজিউমার্স কো অপারেটিভে বিশাল কেরোসিন দুর্নীতির অভিযোগ। গায়েব ১৬ হাজার লিটার কেরোসিন! এই বিপুল পরিমাণ কেরোসিন কীভাবে কালোবাজারি হল? কতদিন ধরে চলছে এই দুর্নীতি? খাতায় কলমে ১৬ হাজার লিটার কেরোসিন তোলা হয়েছে, কিন্তু তা গেল কোথায়? একাধিক প্রশ্নে জেরবার কো অপারেটিভ কর্তৃপক্ষ।মাত্র কয়েকমাস হল ডিএসপি এমপ্লয়িস কনজিউমার্স কো অপারেটিভের ম্যানেজিং কমিটি হয়েছে। আর এই অল্প দিনের মধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগে শোরগোল দুর্গাপুরে। গরীব মানুষের জন্য বরাদ্দ কেরোসিন তেল এই কো অপারেটিভের মাধ্যমেই দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের ১০টি ডিপো থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অভিযোগ, কেরোসিন তেল বিভাগের ডিরেক্টর শংকর সরকার কাউকে কিছু না জানিয়ে প্রথমে সদস্য সুশীল দাসকে দিয়ে ৪০০০ লিটার এবং পরে তিনি নিজে স্বাক্ষর করে আরও ১২ হাজার লিটার কেরোসিন তেল খনি অঞ্চল উখড়ার নির্দিষ্ট ডিলারের কাছ থেকে তুলে নিয়ে আসেন। কিন্তু সেই তেল কনজিউমার কো-অপারেটিভের অধীনস্থ দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের ১০ টি কেরোসিন ডিপোতে এসে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ।

দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট।

তাহলে সেই তেল গেল কোথায়? অভিযোগ নতুন বোর্ড আসার পর কেরোসিন তেলের দাম যেহেতু খুব বেশি অর্থাৎ লিটার প্রতি ১০০ টাকা ছিল তখন অনেকেই কেরোসিন তেল নিতেন না। সেই কারণে নতুন বোর্ড জানুয়ারি মাসে কেরোসিন তেল আর তোলেনি। কিন্তু তারপর তেলের দাম অনেকখানি নেমে যায়। ফেব্রুয়ারি মাসে দুইবার কেরোসিন তেল তোলা হয়। যার পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার লিটার। উখড়ার এলাকার ‘গুপ্তা অটোমোবাইল অ্যন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস’ থেকে ৪০৬২ লিটার এবং পরে তোলা আরও ১২ হাজার লিটার কেরোসিন তোলার পর সেই তেলের দেখা পাওয়া যায়নি কেন? স্টিল টাউনশিপের ১০ টি কোরোসিন বিতরণ কেন্দ্রেও সেই জ্বালানি তেল নেই কেন? মেলেনি উত্তর। অভিযোগ, এই বিপুল পরিমাণ তেল বাইরে খোলা বাজারে বিক্রি করে মুনাফা লাভ করেছেন কেউ কেউ। এই খবর জানা মাত্রই সারা শিল্পাঞ্চল ও ডিএসপি কারখানার অভন্তরে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

দাবি উঠেছে, যাদের জন্য এই ঘটনা হল ও ডিএসপির টাকায় কেনা তেল গরিব মানুষ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হলেন অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তরফে অভিযোগ জানানো হোক। এই অভিযোগে সমবায়ের কেরোসিন তেল বিভাগের ডিরেক্টর শংকর সরকারের বিরুদ্ধে কনজিউমার্স কো অপারেটিভের সেক্রেটারি নন্দ দুলাল বৈরাগ্য একটি নোটিস ইস্যু করেছেন, বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তার কাছে এই বিপুল পরিমাণ কেরোসিন কোথায়, কীভাবে গেল তার জবাব চাওয়া হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনায় বিপাকে শাসকদল। যদিও শংকর সরকার এই ব্যাপারে বলেন, “জানুয়ারি মাসে কেরোসিন তেল তোলাই হয়নি। তাই এখন এই ফেব্রুয়ারি মাসে কেরোসিন তেল তোলা হয়েছে। এবং সেটি ধাপে ধাপে দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার যেমন দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনেও দেওয়া হবে।” কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ কেরোসিন তেল কনজিউমার কো-অপারেটিভ এর অধীনস্থ ১০ টি তেলের ডিলারের কাছে এসে পৌঁছেছে কি? উত্তরে শংকর সরকার জানান, “না। আমরা কেরোসিন তেল তুলিনি, শুধুমাত্র ইস্যু করা হয়েছে। তাই কেরোসিন ডিপোর গুদামে কিংবা ডিলারের কাছে কেরোসিন তেল থাকার কোনও প্রশ্নই নেই।” তার বিরুদ্ধে যে নোটিস ইস্যু হয়েছে তার উত্তর কি তিনি দেবেন? উত্তরে শংকর সরকার জানান, “আমি পুরো বিষয়টি বোর্ডকে জানিয়েছি। এখন দেখি বোর্ড আমাকে যা সিদ্ধান্ত দেবে, আমি সেটাই করব। বোর্ড যদি উত্তর দিতে বলে আমি উত্তর দেব আর না বললে আমি উত্তর দেব না।”

সূত্র মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী, সন্তোষ বাউরি নামের কোন এক কেরোসিন তেল বিক্রেতার নাম এই দুর্নীতিতে উঠে আসছে। এই তেল নাকি ভিন জেলার মাছের ভেড়িতে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। আরও অভিযোগ যে, এই বোর্ড ক্ষমতায় আসার আগে প্রায় এক বছর ধরে কেরোসিন নিয়ে কালোবাজারি হয়েছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের স্থায়ী শ্রমিক সংগঠনের এক আইএনটিটিইউসি নেতার নামও জড়াচ্ছে। যদিও শংকর সরকারের আরও দাবি, “সবেমাত্র আমাদের বোর্ড গঠন হয়েছে। তাই কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি আছে। আর অনেকেই আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসা ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। কোথাও কোন দুর্নীতি হয়নি।” তবে এই নিয়ে হইচই শুরু হতেই মঙ্গলবার থেকে ডিলারদের তেল দেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাহলে এই ১৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার তেল কেলেঙ্কারির কী হবে? উত্তর মেলেনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category