• শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
পি কে হালদারের সহযোগী নওশেরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দুর্নীতির মামলা বেড়েছে, সাজা কম বেবিচকের দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয়ের কোটি টাকার সম্পদের হিসাব তলব ঘুষ হিসেবে জমি নিয়ে ফাঁসলেন উপ-সচিবসহ ৫ জন সিভিল এভিয়েশনে শত কোটি টাকার দুর্নীতি দুদক কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে দায়মুক্তি উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতির মামলায় এস কে সুরের স্ত্রীর ২ বছরের কারাদণ্ড গাজীপুর জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত শুরু আসিফের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান: এনসিপি বলল দুদকের দলীয়করণ স্পষ্ট

তিন রাতে বসল ১৫০ দোকান

স্টাফ রিপোর্টার / ১৪৩ Time View
Update : বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে নামতেই হাতের ডান পাশে এখন চোখে পড়বে সারি সারি দোকান। তিন-চার দিন আগেও ফাঁকা ছিল সৈকতের বিস্তীর্ণ এই বালিয়াড়ি। বর্তমানে সেখানে উঠেছে একই নকশার শতাধিক দোকান। সৈকতের কলাতলী পয়েন্টেও বালিয়াড়ি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে এমন অর্ধশত দোকান।

গতকাল সৈকতের ব্যবসায়ীরা জানান, তিন দিন ধরে রাতের আঁধারে বালিয়াড়ি দখল করে এসব অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে জাকির, শুক্কুর, সেলিমসহ পাঁচ-ছয় জনের একটি চক্র। দোকান নির্মাণে প্রশাসন বাধা দেয়নি।

সরেজমিন দেখা গেছে, কাঠের ফ্রেমের ওপরে লাল রঙের টিনে ছাওয়া ছোট ছোট দোকান। এই দোকানের রয়েছে চারটি করে চাকা। দোকান বসানো ব্যক্তিরা নিজেদের ঝিনুক ব্যবসায়ী পরিচয় দিচ্ছেন। তাদের একজন সোহেল বলেন, ‘গত বছরের ৫ আগস্টের আগেও এখানে অনেকেই ব্যবসা করেছে। আমরা করলে অসুবিধা কী?’

জানা গেছে, কক্সবাজার সৈকত প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হওয়ায় কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা বসানোর বিষয়ে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ কারণে জেলা প্রশাসনের অনুমতির বিষয়টি এত দিন গোপন রাখা হয়।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিম খান সমকালকে বলেন, বালিয়াড়িতে নির্মিত স্থাপনাগুলো নিজ উদ্যোগে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থাপনা নির্মাণকারীদের কাছে প্রশাসনের অনুমতিপত্র রয়েছে। তবে একটি শর্ত হলো প্রশাসন চাইলে তা বাতিল করতে পারবে।

অনুমতিপত্রে লেখা আছে, সমুদ্রসৈকত এলাকায় অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করা যাবে। তবে বালিয়াড়িতে নির্মাণ করা যাবে কিনা, সে কথা উল্লেখ নেই। কিন্তু বালিয়াড়িতে দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না– এ কথাও অনুমোদনপত্র উল্লেখ আছে।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, সৈকতের বালিয়াড়ি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এক অমূল্য সম্পদ। এগুলো সাগরের ঢেউয়ের ধাক্কা ঠেকায়, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে উপকূলকে রক্ষা করে। অথচ এসব বালিয়াড়ি দখল করে দোকান বসানো হয়েছে।

কক্সবাজার সৈকতে বালিয়াড়ি দখল করে স্থাপনা নির্মাণকারীদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন সমকালকে বলেন, সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে বালিয়াড়ি দখল করে নির্মিত ২০০ স্থাপনা দেখা গেছে।

বালিয়াড়িতে দোকান বসানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছি।’ সৈকতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন ৩০০টি অনুমতিপত্র গোপনে ইস্যু করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সঠিক সংখ্যা এ মুহূর্তে বলতে পারব না। তবে কিছু অনুমতিপত্র ইস্যু করা হয়েছে।’

সৈকত দখলের বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়ার জন্য যা করার, তা-ই করব।’

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বালিয়াড়িতে স্থাপনা নির্মাণের আইনগত সুযোগ নেই। অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category