• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
জমি, পাঁচতলা বাড়ি, স্ত্রীর নামে নগদ টাকাসহ যত অবৈধ সম্পদ ওয়াসার গাড়িচালক তাজুলের দুর্নীতির মামলায় সাবেক কর কর্মকর্তা শ্যামলের ৫ বছরের কারাদণ্ড স্বাস্থ্য খাতকে দুর্নীতির মাধ্যমে ভেঙে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেনজীরের দুর্নীতির মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্য মোদি–আদানির সম্পর্ক আর দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা দুর্নীতির মামলা: সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি এনবিআরের চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব ঘুস-দুর্নীতির অভিযোগে মোংলা কাস্টমস কর্মকর্তার অপসারণ দাবি স্ত্রী-শ্যালকসহ সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা প্রশ্নফাঁসের শাস্তি, সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় বদলি!

কর কমিশনার রঞ্জিত কুমার তালুকদারের ১০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

বিশেষ প্রতিনিধি / ১০০৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬

শতকোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে সাবেক কর কমিশনার ও ট্যাক্সেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালের সাবেক সদস্য রঞ্জিত কুমার তালুকদারের বিরুদ্ধে। সরকারের সাবেক এই কর্মকর্তার দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক ছাড়াও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটসহ (বিএফআইইউ) বেশ কয়েকটি সংস্থা তাঁর বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, রঞ্জিত কুমার তালুকদার তাঁর আয়বহির্ভূত সম্পদের উৎস গোপন করতে বেশির ভাগ সম্পদ গড়েছেন আত্মীয়স্বজনের নামে। অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রী ঝুমুর মজুমদার, শাশুড়ি কল্যাণী মজুমদার, শালি কাকলী মজুমদার এবং শালা অমিত মজুমদারের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন রঞ্জিত।

দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রঞ্জিতের স্ত্রী ঝুমুর মজুমদারের বিরুদ্ধেও নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য রয়েছে তাঁদের কাছে। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের তিনটি শাখায় অন্তত সোয়া তিন কোটি টাকার এফডিআর স্থিতি আছে তাঁর নামে। এর মধ্যে সাভার ব্রাঞ্চের ১১টি হিসাবে ১ কোটি ২৪ লাখ ৫৬ হাজার ২৯৪ টাকা, একই ব্যাংকের রাজধানীর রাজউক অ্যাভিনিউর প্রিন্সিপাল শাখার ৯টি হিসাবে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৯৯ হাজার ২৬১ টাকা ও ফার্মগেটে গ্রিন রোড শাখার দুটি হিসাবে আছে ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৫ টাকা।

রঞ্জিত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করছেন কমিশনের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি দুদকের এই কর্মকর্তা। তবে অনুসন্ধান চলমান আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রঞ্জিতের শাশুড়ির নামে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর আছে এমন তথ্য উঠে এসেছে দুদকের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। বিপুল এই অর্থের বিপরীতে তাঁর নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই। এ ছাড়া তাঁর নামে সাভারের ধামরাইয়ে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি থাকার তথ্যও রয়েছে।

রঞ্জিত ও ঝুমুর মজুমদারের নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট থাকার সত্যতা পেয়েছে দুদক। তবে এই সম্পত্তির বিষয়ে এখনই বিস্তারিত তথ্য জানাতে রাজি হননি সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, রঞ্জিত ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়েছে দুদক। একইভাবে এই দম্পতির সব ধরনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতেও চিঠি দিয়েছে বিএফআইইউ।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত রঞ্জিতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর স্ত্রী ঝুমুর মজুমদারকে ফোন করা হলে সংবাদকর্মী পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন।

ঝুমুর মজুমদারের বোন কাকলী মজুমদারকে তাঁর মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি একটু পরে ফিরতি ফোন করবেন বলে ফোন রেখে দেন। তবে ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তিনি আর ফোন করেননি। এরপর আরও বেশ কয়েকবার তাঁকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category