একটি প্যাকেজে আট কোটি টাকার কার্যাদেশ দেন। এখান থেকে তিনি নিজের বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা আয় করে নেন।
এর আগে রোকন উদ্দিন ছিলেন বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী। সেখানেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক ঠিকাদার রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে অভিযোগ করা হয়, প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন ঘুষ ছাড়া কাউকে কোনো কার্যাদেশ দেন না। ঘুষ না দিলে টেন্ডার নোটিশ গোপন করে বাগেরহাটের তালিকাভুক্ত ঠিকাদারদের কার্যাদেশ দেন।
বাগেরহাটের ঠিকাদার আলমগীর কবির প্রকৌশলী রোকন উদ্দিনের দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় তাকে আর কার্যাদেশই দেননি। প্রচন্ড অর্থকষ্টে তিনি মানবেতর জীবন যাপন করেন। ঠিকাদারি পেশায় তিনি এখন পর্যন্ত দাঁড়াতে পারেননি। আলমগীর কবির ভুক্তভোগী আরও ১০ ঠিকাদারের স্বাক্ষর নিয়ে রোকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির নানা অভিযোগ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গণপূর্ত সার্কেল, খুলনা বরাবর দাখিল করায় তিনি এই রোষানলের শিকার হন।
জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতার বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রোকন উদ্দিনের স্ত্রীর দেওয়া অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগটি আমলে নিয়ে তা তদন্তের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে অভিযোগের সত্যতা মিললে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো প্রকৌশলী নিজে বা তার নিকট আত্মীয় দিয়ে একই সংস্থায় ব্যবসা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। যারা দীর্ঘ সময় একই স্টেশনে থেকে এমন কাজ করছে তাদের সরিয়ে আনা হবে। এমন কাজ কারা কারা করেছে তাও খুঁজে বের করা হচ্ছে।’
প্রকৌশলী রোকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ছয় মাসের অধিক সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ না দেখায় হতাশ অধিদপ্তরের অন্যান্য অনেক প্রকৌশলীরা।
কয়েকজন প্রকৌশলী জানান, রোকন বেপরোয়া প্রকৃতির কর্মকর্তা। যেখানে চাকরি করেছেন সেখানেই তিনি নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন ওরফে মুন্সি রোকনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘অভিযোগে ঘুষ, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ এবং অর্থ পাচারের উপকরণ থাকলে সেটি দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ। দুদক নিশ্চয়ই সেটি খতিয়ে দেখবে।’
একাধিক অভিযোগ ও দৃশ্যমান অপরাধের পরেও দুর্নীতিবাজ এমন সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তির মুখোমুখি না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকারকর্মী আবু সালেহ আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাগণ পাহাড় সমান অপরাধ করার পরেও শাস্তির মুখোমুখি না হয়ে এমন নির্লজ্জ বহাল তবিয়তে থাকাটা দেশ ও জনগণের দুর্ভাগ্য বটে।’