• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
জমি, পাঁচতলা বাড়ি, স্ত্রীর নামে নগদ টাকাসহ যত অবৈধ সম্পদ ওয়াসার গাড়িচালক তাজুলের দুর্নীতির মামলায় সাবেক কর কর্মকর্তা শ্যামলের ৫ বছরের কারাদণ্ড স্বাস্থ্য খাতকে দুর্নীতির মাধ্যমে ভেঙে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেনজীরের দুর্নীতির মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্য মোদি–আদানির সম্পর্ক আর দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা দুর্নীতির মামলা: সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি এনবিআরের চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব ঘুস-দুর্নীতির অভিযোগে মোংলা কাস্টমস কর্মকর্তার অপসারণ দাবি স্ত্রী-শ্যালকসহ সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা প্রশ্নফাঁসের শাস্তি, সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় বদলি!

২৫৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ! বাগেরহাট ডিসি অফিসের ওমেদার মান্নানের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার / ৫২৩ Time View
Update : শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সাবেক উমেদার আব্দুল মান্নান তালুকদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২৪৫ কোটি টাকা ‘মানিলন্ডারিংয়ের’ অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডি।

বুধবার বাগেরহাট সদর থানায় মামলাটি করার কথা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মামলার বাকি আসামিরা হলেন—আনিসুর রহমান, সালেহা বেগম ও জেসমিন নাহার। এর মধ্যে জেসমিন সাবেক উমেদার আব্দুল মান্নান তালুকদারের স্ত্রী।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা ‘নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড’ নামে কোম্পানির জন্য উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে ১৯ হাজার ৯৬৭ জন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ২৪৫ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা আমানত নিয়ে তা অন্যত্র স্থানান্তর করেন।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর সাবেক কর্মচারী আব্দুল মান্নান তালুকদার ১৯৮৪ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এমএলএসএস পদে চাকরি করেন। ২০১০ সালে স্বেচ্ছায় অবসরে যান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চাকরি অবস্থাতেই জমি কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মান্নান। ডিসি অফিসে চাকরির সুবাদে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। অবসরের পর তিনি ‘মানুষ মানুষের জন্য’ স্লোগানে ‘নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট’ নামে একটি আর্থিক লেনদেন প্রতিষ্ঠান চালু করেন।

প্রতিষ্ঠানটি জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মস থেকে নিবন্ধিত হয়। যেটির ব্যবসার ধরন ছিল রিয়েল এস্টেট ব্যবসা ও জমি ক্রয়-বিক্রয়। এর মালিকানা ছিল কয়েকজনের। তবে ওই কোম্পানির ৯৫ ভাগ শেয়ারের মালিক আব্দুল মান্নান তালুকদার ও তার পরিবার। মাত্র ৫ ভাগ শেয়ারের মালিক ছিলেন মামলার ২ নম্বর আসামি মো. আনিসুর রহমান।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে সিআইডি বলেছে, নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে আমানতকারীদের অর্থের নিশ্চয়তাসহ সুদমুক্ত হালাল ব্যবসায় লাভবান হওয়ার বিষয়ে প্রচারণা চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের ৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ যেকোন পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করার মাধ্যমে ৪ থেকে ৫ বছরে বিনিয়োগকৃত অর্থ দ্বিগুণ করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।

সিআইডি বলছে, কোম্পানির শর্ত অনুযায়ী শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করার কথা ছিল। কিন্তু কোম্পানিটি উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে ১৯ হাজার ৯৬৭ জন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২৪৫ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা আমানত গ্রহণ করে।

সিআইডি আরও জানিয়েছে, আব্দুল মান্নান সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহ করা অর্থ থেকে ৬৬ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নিজের মালিকানাধীন সাবিল গ্রুপের ছয়টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেন।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, এ্যাজাক্স জুট মিলস লিমিটেড, সাবিল ড্রেজিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, সাবিল জেনারেল হাসপাতাল, সাবিল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প, সাবিল ল প্লাজা ও সাবিল মৎস্য প্রকল্প।

বাকি অর্থও নামে-বেনামে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করার অভিযোগ এনে সিআইডি বলছে, প্রতারণার ঘটনা প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় মামলা করা হয়েছে।

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category